নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম: চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে কাজল সেখের(Kajal Sk.) হাতে তুলে দেওয়া হল ২০কেজি ওজনের ব্রোঞ্জের সিংহের(Lion) মূর্তি ও মুকুট। এর আগে তার মাথায় উঠেছিল রুপোর মুকুট।উল্লেখ্য, বীরভূমে এতোদিন বাঘ বলে পরিচিত ছিল অনুব্রত মণ্ডল এবার সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাঘকে টেক্কা দিতে কি জেলায় সিংহের আগমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সকলে।কার্যত অনুব্রত-কাজলের যে ঠাণ্ডা লড়াই সেই লড়াইকে সামনে রেখেই প্রশ্ন খাড়া করে দিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।নানুরের চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্র নেতারা এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন তাঁদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।
প্রসঙ্গত, গত ১লা জানুয়ারি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বাসাপাড়ায় আয়োজিত মিলন মেলায় ৫কেজি ওজনের একটি রুপোর মুকুট(Sliver Mukut) কাজল সেখের মাথায় পড়িয়ে দিতে দেখা গিয়েছিল থুপসারা অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্বদের ।তারপর ফের চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে কাজল সেখকে সিংহের মূর্তি দেওয়া হয়।যা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। আগামী দিনে নানুরের তৃণমূল নেতারা কাজল সেখকে সামনে রেখে কি ব্যাখা দিতে চাইছেন সেটাই এখন দেখার।
বুধবার দুপুরে চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে নবীন বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের হাতে ওই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে সভাধিপতির হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০ কেজি ওজনের একটি ব্রোঞ্জের সিংহ ও একটি মুকুট।সেই সিংহের মূর্তি কাজল সেখকে উপহার দেওয়ার পর কাজল সেখ জানান,আমাকে এতোদিন অনেক জন অনেক নামে অভিহিত করতো মুকুটহীন সম্রাট বলে। এবার সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজল সেখ আরও বলেন যে, সিংহের মতোই সারা বীরভূম জেলা জুড়ে কোথাও অন্যায় অবিচার অত্যাচার হলে কাজল শেখ বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন তিনি।
এমনটাই হুংকার দিলেন চণ্ডীদাস মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরাএ প্রসঙ্গে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্যাসী চরণ মণ্ডল জানান- বাঘ তো আমরা দেখেছি বাঘের অবস্থা বর্তমানে কি স্থিতি আছে। আজকে যিনি নিজেকে সিংহ বলে স্বীকার করছে আগামী দিনে সিংহ ওই বাঘের মতোই অবস্থা হবে।অন্যদিকে, সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামলী প্রধান জানান,এই নিয়ে বলার কিছু প্রয়োজন মনে করি না।