নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নীতীশ রেড্ডি ও রিঙ্কু সিংয়ের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ল টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তুলেছে সূর্যকুমার যাদবের বাহিনী। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন। তিনি ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতেই চমক দিয়ে তিনি আক্রমণ শানানোর ভার তুলে দেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। প্রথম ওভারে মারমুখী মেজাজে ব্যাট করে ১৫ রান তোলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে মিড অফে নাজমুলের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু (৭ বলে ১০)। পরের ওভারে তানজিম হাসানের বলে ক্লিন বোল্ড হন অভিষেক শর্মা (১১ বলে ১৫)। বাংলাদেশের বোলারদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের মুখে হাত খোলার সুযোগ পাননি সূর্যকুমার- নীতীশ রেড্ডিরা। এর মধ্যে বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক লিটন দাস তানজিমের বলে নীতীশের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। ব্যক্তিগত ৫ রানে জীবন পান নীতীশ। বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি ভারত অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব। মোস্তাফিজের অফ স্টাম্পের ধীর গতির বল ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড অফে নাজমুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ১০ বলে ৮।
এর পরে চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান নীতীশ ও রিঙ্কু। দুজনেই বাংলাদেশি বোলারদের পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেন। ১০ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত নীতীশকে (৩৩ বলে ৭৪) ফিরিয়ে ১০৮ রানের জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। যদিও তাতে বাংলাদেশের খুব একটা লাভ হয়নি। হাতখুলে মারতে শুরু করেন রিঙ্কু। ২৬ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তরুণ ব্যাটার। তবে অর্ধশতরান পূর্ণ হওয়ার পরেই তাসকিন আমেদের বলে সাজঘরে ফেরেন রিঙ্কু (২৮ বলে ৫৩)। এর পরে বিধ্বংসী মেজাজ ধারণ করেন হার্দিক পাণ্ড্য। তানজিমের বলে চার হাঁকিয়ে ১৮.২ ওভারে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন তিনি। কিন্তু শেষের দিকে আচমকাই ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং অর্ডার। রিয়ান পরাগ ১৯তম ওভারে তানজিমের বলে পর পর দুটি ছক্কা হাঁকান। পরের বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। শেষ ওভারে রিশাদ হোসেনের বলে পর পর ফেরেন হার্দিক পাণ্ড্য (১৮ বলে ৩২), বরুণ চক্রবর্তী (০) এবং আর্শদীপ সিং (৬)।