নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের পরিত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। মঙ্গলবার তাঁর হাত ধরেই সেমিফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসিকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছল মোহনবাগান। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ২-২ থাকায় ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। আর গোল পোস্টের নিচে দুর্ভেদ্য প্রহরী হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন সবুজ মেরুন সমর্থকদের বড় ভরসা বিশাল কাইথ। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও দলকে জেতালেন বাগান গোলরক্ষক।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রিয় দলের খেলা দেখতে এদিন গ্যালারি ভরিয়ে দিয়েছিলেন সবুজ মেরুনের সমর্থকরা। কিন্তু হাজার-হাজার সমর্থকদের উপস্থিতিতেও প্রথমার্ধে তেমন উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে পারেননি বাগানের খেলোয়াড়রা। বরং রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে বার বার বেঙ্গালুরুর সুনীল ছেত্রীদের আক্রমণ শানানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন শুভাশিস বসু, টম অলড্রেডরা। মোহনবাগানের ছন্নছাড়া ফুটবলের সুবিধা নিয়ে বেশ কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর খেলোয়াড়রা। ২৭ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে শুভাশিস মাঠ ছাড়ার পরে বাগানের রক্ষণ আরও নড়বড়ে হয়ে যায়।
৪১ মিনিটে বেঙ্গালুরুর বিনিথকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মনবীর সিংহ। পেনাল্টি পায় বেঙ্গালুরু। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি সুনীল ছেত্রী। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরে খানিকটা গা ঝাড়া দিয়ে আসরে নামে বাগানের খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে অনিরুদ্ধ থাপার ক্রস থেকে হেড করেন আলবের্তো রদ্রিগেস। বল পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফের রক্ষণের ভুলে গোল হজম করতে হয় মোহনবাগানকে। ৫০ মিনিটের মাথায় অলড্রডের একটি ব্যাক পাস বার করতে গিয়ে মিস করেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ফাঁকা গোলে সেই বল ঠেলতে ভুল করেননি বিনিথ। বাধ্য হয়ে অলড্রেডকে তুলে গ্রেগ স্টুয়ার্টকে নামান মোলিনা। নেমেই ব্যবধান কমানোর সহজতম সুযোগ পেয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। বল বারতে গিয়ে ভুল করেন বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু। ফাঁকা গোলে হেড করতে যান স্টুয়ার্ট। কিন্তু ঠিক মতো মাথায় বল লাগাতে পারেননি তিনি। ৬৬ মিনিটের মাথায় ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাগান। বক্সের মধ্যে মনবীরকে জার্সি ধরে ফেলে দেন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় বাগান। গোল করে ব্যবধান কমান পেত্রাতোস। মোহনবাগান এক গোল শোধ করতেই বেঙ্গালুরুর কোচ রক্ষণে লোক বাড়িয়ে ফেলেন। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না কামিংসেরা। শেষ পর্যন্ত ৮৪ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে ফিরতে বলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে জোরালো শট মারেন থাপা। ফুটবলারদের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। সমতা ফেরানোর পরে আরও গোল করার চেষ্টা করে বাগান। কিন্তু বাকি সময়ে আর গোল হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।