নিজস্ব প্রতিনিধি: শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলা। টানা ১২ বছর অপেক্ষার পর গত ১৩ জানুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে মহাকুম্ভ মেলা। সনাতন হিন্দুধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব মহাকুম্ভ মেলা, মহা সমাবেশ। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, টানা ৪৫ দিন। প্রতিদিন কোটি কোটি ভক্তের সমাগম হচ্ছে এই মেলায়। গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে ডুব দিচ্ছেন ভক্তরা। তবে এবারের মহাকুম্ভে সবথেকে আকর্ষণীয় বিষয় হল অ্যাপেলের সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বিধবা স্ত্রী লরেন পাওয়েল জবসের কল্পবাস ব্রত পালন। মেলার শুরুর পরের দিনই তিনি চলে এসেছেন এবং এখানে এসে গেরুয়া বস্ত্র পরে তাঁর একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে এবং তিনি কমলা নামে পরিচিত হয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারী) ৩.৫ কোটি ভক্ত মহা কুম্ভের প্রথম শাহি স্নানে ডুব দিয়েছেন। অ্যাপলের প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রীও শাহি স্নানে অংশ নিয়েছিলেন। এবার আরও একটি বিষয় সংবাদে র শিরোনামে এল তা হল, ৫০ বছর আগে কুম্ভ সম্পর্কে স্টিভ জবসের লেখা একটি চিঠি।
সম্প্রতি চিঠিটি ৪.৩২ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৯৭৪ সালে ১৯ বছরের জন্মদিনে কুম্ভমেলা সম্পর্কে চিঠিটি লিখেছিলেন অ্যাপলের প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। তিনি চিঠিটি নিজ হাতে লিখেছিলেন। তাঁর চিঠিতে ভারত এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি স্টিভ জবসের আগ্রহ ফুটে উঠেছে। সেখানে তিনি ভারতে অনুষ্ঠিত কুম্ভ মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, তিনি এই চিঠিটি তার ছোটবেলার বন্ধু টিম ব্রাউনকে পাঠিয়ে ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগ, অনুভূতি সবটাই চিঠিতে ফুটে উঠেছিল। যা কিনা এখন নিলামে উঠেছে। একজন দরদাতা সর্বোচ্চ $ ৫০০,৩১২.৫০ (৪.৩২ কোটি টাকা) দর দিয়ে এই চিঠিটি কিনেছেন।
স্টিভ জবস চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আমি এপ্রিলে ভারতে শুরু হতে যাওয়া কুম্ভ মেলায় যেতে চাই, মার্চ মাসে যে কোনও সময় আসব, তবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।’ তবে তিনি এই চিঠিতে ভারত সফরের পাশাপাশি সেখানকার সংস্কৃতি ও শিক্ষার কথাও লিখেছেন। যদিও স্টিভ জবস ১৯৭৪ সালে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন।তবে ভারতে এসে প্রথমে তিনি উত্তরাখণ্ডে নিম করোলি বাবার আশ্রম দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং কাঞ্চি ধামে থেকেছিলেন। সেই সময় স্টিভ জবস ভারতে ৭ মাস কাটিয়েছিলেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে বুঝেছিলেন। সুতরাং, প্রয়াগরাজে আয়োজিত মহাকুম্ভে লরেন জবসের উপস্থিতি হয়তো স্বামীর ইচ্ছাতেই। লরেনের কমলা নাম দিয়েছেন আধ্যাত্মিক গাইড স্বামী কৈলাশানন্দ গিরি, তিনি তাঁর ৪০ সদস্যের দলের সঙ্গে ধ্যান, যোগ এবং প্রাণায়াম করছেন।