Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

শত্রু থেকে ভক্ত! জেনে নিন ত্রিভুবন কাঁপানো মহিষাসুরের জন্ম রহস্য

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি : অত্যাচারী অসুর মহিষাসুরকে বধ করে পাপের বিনাশ করেছিলেন মহিষাসুরমর্দিনী। সেই মহিষাসুরই দেবীর পদতলে ঠাঁই পায়। দেবীর সঙ্গে পুজিত হন তিনি। হাতে আর বেশি সময় নেই। কৈলাস থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ধরাধামে বাপের বাড়িতে পা রাখবেন উমা। সঙ্গে আসবে পার্বতীর পদতলে আহত মহিষাসুরও। আপনি কী জানেন কে ছিল এই মহিষাসুর ? কীভাবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ? তবে জেনে নিন জীবনবৃত্তান্ত।

পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী মহিষাসুরের জন্ম নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। জানা যায়, ত্রিভুবন কাঁপানো মহিষাসুরের জন্ম থেকে মৃত্যুমুহূর্ত পর্যন্ত মায়াবী কুয়াশায় ঢাকা ছিল।

রূপাঞ্জন গোস্বামী অসুরকুলপতি দানুর বংশধর ছিলেন অসুররাজ রম্ভাসুর। একদিন রম্ভাসুর গভীর অরণ্যের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় এক স্ত্রী মহিষের দেখা পেয়েছিলেন। অলৌকিক ক্ষমতাধারী রম্ভাসুর জানতে পেরেছিলেন স্ত্রী মহিষটি আসলে পশুরূপ ধারণ করা এক রাজকন্যা। অসুররূপ ছেড়ে মহিষের রূপ ধারণ করে রম্ভাসুর নেমে গিয়েছিলেন জলাশয়ে। মহিষরূপী শ্যামলার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন মহিষরূপী রম্ভাসুর। মিলনের ফলে গর্ভবতী হয়েছিলেন শ্যামলা। মহিষরূপী রাজকন্যা শ্যামলার গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছিলেন শক্তিধর মহিষাসুর। এর আগে কঠোর তপস্যা করে অগ্নিদেবের থেকে বর পেয়েছিলেন , রম্ভের যে পুত্র সন্তান হবে সে হবে স্বর্গ, মর্ত্য এবং অসুরলোকের একচ্ছত্র অধিপতি।

মহিষাসুর নামকরণ কেন :  মা শ্যামলা মহিষ ছিলেন বলে মহিষাসুরও মহিষের রূপ ধারণ করতে পারতেন। এছাড়াও বিপদের মুহূর্তে বা প্রয়োজনে অন্য পশুর রূপ ধারণ করার সহজাত ক্ষমতা ছিল রম্ভাপুত্রের। পুত্রের জন্মের কিছুদিন পরেই মা শ্যামলার মৃত্যু হয়েছিল।

আরও পড়ুন : দেবতাদের থেকেও শক্তিশালী ! কারা ছিল ভয়ংকর এই অসুর ?

স্বামীর আত্মাকে নিজ গর্ভে ঠাঁই দিয়েছিলেন কেন মহিষরুপী শ্যামলা :  একবার রম্ভ যখন তপস্যারত ছিলেন তখন অন্তঃসত্ত্বা মহিষী রানি (শ্যামলা) তখন পশুর রূপ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তখন এক মায়াবি মোষ তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করে। রাজা রম্ভ বাধা দিলে যুদ্ধ শুরু হয় এবং সেই যুদ্ধে প্রাণ হারান রম্ভ। তখন তাঁর আত্মা যমরাজ নিয়ে যেতে চাইলে পতিব্রতা মহিষরুপী নারীর জেদের কাছে হার মানে যমরাজ। তখন শ্যামলা তাঁর স্বামীর আত্মাকে ঠাঁই দেয় তাঁর গর্ভে। একদিকে তাঁর গর্ভে বেড়ে ওঠে তাঁর স্বামী রম্ভাসুরের আত্মা অন্যদিকে নিজ গর্ভস্থ সন্তান মহিষাসুর। তাঁর স্বামীর আত্মার পুনর্জন্ম হওয়ার বর পেয়েছিলেন শ্যামলা। সেই আত্মায় আসলে ছিল অসুর রক্তবীজ। আর যে গর্ভস্থ সন্তানের জন্ম হয়, তিনিই ছিলেন মহিষাসুর।

এদিকে মহিষাসুর বড় হয়ে উঠতেই স্বর্গ মর্ত্য পাতাল জুড়ে অসুর সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেছিলেন। অগ্নি ও ব্রহ্মার বরে বলীয়ান মহিষাসুরের হাত থেকে পরিত্রাণ পাননি সাধুসন্তরাও। তাঁর অত্যাচার বেড়েই চলেছিল।

ত্রিভুবন কাঁপানো মহিষাসুর ব্রহ্মার থেকে বর পেয়েছিল যে কোন মানুষ, দেবতা এমনকী কোন পশু তোমায় হত্যা করতে পারবে না। একমাত্র কোনও নারী তাঁকে বধ করতে পারবে।

মহিষাসুরকে বধ করা কে এই দেবী :  পরবর্তীকালে ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের তেজ থেকে জন্ম হয় অপূর্ব সুন্দরী এক নারীর।দেবতাগণ তাঁদের নিজ নিজ অস্ত্র দিয়ে সাজিয়ে তোলেন সেই দেবীকে। বিষ্ণু এঁর নাম দেন চণ্ডিকা।এটা দেবী দুর্গারই উগ্র রূপ। ভয়ঙ্কর যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত নিহত হন মহিষাসুর। চণ্ডিকা রূপে দুর্গা বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে।আর কালী রূপে তিনি বধ করেন রক্তবীজকে।

কেন দেবীর সঙ্গে মহিষাসুর পুজিত হন :  একদিন রাত্রিবেলা স্বপ্নে এক ভদ্রকালী মূর্তি দেখলেন মহিষাসুর। তাঁর তেজ দেখে মহিষাসুর তাঁর আরাধনা শুরু করলেন। আরাধনায় প্রীত ও প্রসন্ন দেবী তাঁকে বর চাইতে বললেন।

মহিষাসুর জানালেন, ‘আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোনও দুঃখ বা ক্ষোভ আমার নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সকলের পূজিত হই সেই আশীর্বাদ করুন। এছাড়া আর কিছুই চাই না আমি।’ দেবী ভদ্রকালী তখন আশীর্বাদ করে বললেন, ‘উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী আর দুর্গা, এই তিন মূর্তিতে আমার পদলগ্ন হয়ে তুমি সব সময়েই পূজ্য হবে দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের।’

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00