নিজস্ব প্রতিনিধি : রবিবার(৩ নভেম্বর) ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে ভাইফোঁটা। বোনেরা প্রত্যক বছর এইদিনটির অপেক্ষায় থাকে। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করে বোনেরা। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেওয়ার সময় হাতের কড়ে আঙুল ব্যবহার করা হয়। জানেন কী হাতের কনিষ্ঠা বা কড়ে আঙুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেওয়া হয় কেন? তবে জেনে নিন এর পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে।
ভাইফোঁটার উৎপত্তি নিয়ে বহু মতভেদ রয়েছে। এর পেছনে নানান কাহিনীও রয়েছ। মনে করা হয়, এই প্রথা শুরু হয়েছে মৃত্যুর দেবতা যম ও তাঁর বোন যমুনার সম্পর্কের হাত ধরে। এই তিথিতে যমরাজ তাঁর বোন যমুনার থেকে ফোঁটা নিয়েছিলেন। এই উৎসবকে তাই অনেকে ‘যমদ্বিতীয়া’ও বলে থাকেন। আবার মনে করা হয় ভাঁইফোঁটা এসছে ভগবান বিষ্নুর নবম অবতার শ্রীকৃষ্ণের নরকাসুর বধের পর বোন সুভদ্রা ফোঁটা দিয়ে বরন করে নিয়েছিলেন।এরপর থেকেই ভাইফোঁটা উৎসবটি এসছে।
জানেন কী, যমের দুয়ারে কাঁটা দিতে ঘটা করে চিত্রগুপ্তের পুজো হয় বাংলার এই গ্রামে?
তবে ভাইফোঁটার উৎপত্তি যাই হোক না কেন, কেন কড়ে আঙুল একমাত্র ব্যবহার করা হয় এর পেছনে ব্যাখ্যা আছে সনাতন হিন্দু শাস্ত্রে। মনে করা হয়, হাতের পাঁচটি আঙুল পঞ্চ ভূতের প্রতীক। এই পঞ্চ ভূত হল ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম। কনিষ্ঠা বা কড়ে আঙুল হল ব্যোম অর্থাৎ আকাশ বা মহাশূন্যের প্রতীক। তেমনই আবার ভাই ও বোনের সম্পর্ক আকাশের মতোই উদার, অসীম ও অনন্ত। তাই আকাশের প্রতীক হিসেবে বাঁ হাতের কড়ে আঙুল দিয়েই ফোঁটা দেওয়ার রীতি চলে আসছে।