Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

কালীপুজো উপলক্ষে আয়োজিত ২৫০ বছরের কুন্ডুবাড়ির মেলা বন্ধ করল মোল্লা ইউনূসের সরকার

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বদলে যাওয়া বাংলাদেশে হিন্দুরা যে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তা প্রতি মুহুর্তে বুঝিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানের দালাল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। এবার কট্টর মৌলবাদী তথা ইসলামি জিহাদি দল ইসলামী আন্দোলনের চাপে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় কালীপুজো ও দীপাবলি উপলক্ষে আয়োজিত প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুন্ডুবাড়ির মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের তরফে মেলার আয়োজকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ বছর আর ওই মেলার আয়োজন করা যাবে না। আর ওই সিদ্ধান্তের কথা ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিমরাও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘দেশটা কী তালিবানিদের দখলে চলে গেল?’

মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুরের কুন্ডু বাড়িতে ১৭৮৩ সালের নভেম্বরে দীপাবলি ও শ্রীশ্রী শ্যামাপুজো উপলক্ষ্যে দীননাথ কুন্ডু ও মহেশ কুন্ডু এই মেলা চালু করেন। পরে কুন্ডুদের বংশের নামানুসারে এই মেলার নামকরণ হয় কুন্ডবাড়ির মেলা। এক সময়ে দীপাবলির পরের দিন এই অঞ্চলের বিভিন্ন কালি প্রতিমা জড়ো করা হত। এর মধ্যে যাদের প্রতিমা সেরা হতো তাদের পুরস্কার প্রদান করা হত। সেই সময় সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য পুতুল নাচ, কবিগান, জারি গান, পালাগান, নৌকাবাইচের আয়োজন করা হত। কালের বিবর্তনে পালাগান জারি গান, নৌকা বাইচ বন্ধ থাকলেও নাগরদোলার আয়োজন এখন রয়েছে। বংশপরম্পরায় প্রতি বছর এই মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসে। মেলাতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে ভিড় জমান বহু ব্যবসায়ী । মাদারীপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল জেলার বিভিন্নস্থান থেকে হাজার হাজার লোকের ঢল নামে এই প্রাচীন মেলায়।

কিন্তু এবার ওই মেলা বন্ধের জন্য আসরে নামে ইসলামি জিহাদিরা। আর তাদের নেতৃত্বে ছিলেন হুজি জঙ্গি নেতা তথা ভূরঘাটা বাজার মসজিদের ইমাম ওমর ফারুক। স্থানীয় পুরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে মেলা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা। মেলা বন্ধ না করলে হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দেন। আর ইসলামি জিহাদিদের সেই হুমকির মুখে মাথানত করে ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। কেন ২৫০ বছরের মেলা বন্ধের দাবি উঠল তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ভূরঘাটা বাজার মসজিদের ইমাম ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুনেছি, কুন্ডুবাড়ির মেলায় অপ্রীতিকর অনেক কিছুই ঘটে। স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছে। তাই আমরা মেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছি।’

পুজো উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা বাসুদেব কুন্ড ২৫০ বছরের মেলা বন্ধের খবর শোনার পরেই মুষড়ে পড়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘ কালীপুজো উপলক্ষ্যে আমাদের পূর্ব পুরুষরা মাত্র ৪ একর জমির উপর এই মেলার আয়োজন করেছিলেন। পরে ধীরে ধীরে এই মেলার আকৃতি আরও বড় হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পরে। প্রতি বছর এই মোলায় কমপক্ষে ৭-৮ কোটি টাকার বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বিক্রি হয়। এ বছর মেলা না হওয়ায় অনেক ছোট ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।’ ভূরঘাটা কুন্ডুবাড়ি কালীপুজো উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কুন্ডু মেলা বন্ধের ঘোষণায় বাকরুদ্ধ। তাঁর কথায়, ‘কালীপুজো ঘিরেই এই মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসপত্রের বেচাকেনা হয়। হাজারো দোকানপাট বসে। লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলা। এই মেলা বন্ধ করতে রাতের আঁধারে কিছু মানুষ ব্যানার টাঙিয়ে মেলা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনায় আতঙ্কিত ও মর্মাহত।’

 

 

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00