আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে গ্রেফতার করা হল দক্ষিণ কোরিয়ার বরখাস্ত হওয়া প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইওলকে। বুধবার সকালে অতর্কিতে হানা দিয়ে সিওলের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। যদিও গ্রেফতার করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। বরখাস্ত হওয়া প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। কয়েক ঘন্টার টানাপোড়েন শেষে ইওলকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গত ৩ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আচমকাই দেশে সামরিক আইন জারির কথা জানান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইওল। ভাষণে তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উনের মদতে ক্ষমতা দখলের ছক কষছে বিরোধীরা। তাই দেশকে কমিউনিস্ট আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করার পথে হাঁটা হয়েছে।’ যদিও সামরিক আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান দক্ষিণ কোরিয়ার সাংসদ ও সাধারণ মানুষ। ইওলকে বরখাস্তের দাবি তোলেন বিরোধীরা। চাপে পড়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেন ইওল। যদিও তাতে লাভ হয়নি। গত ১৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তাঁকে অভিশংসন (ইমপিচ) করা হয়।
অবৈধভাবে সামরিক আইন জারি করার জন্য গত ৩১ ডিসেম্বর ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। কিন্তু প্রথমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বরখাস্ত হওয়া প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষী ও সমর্থকদের বাধায় ইওলকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। খালি হাতেই ফিরতে হয়। এর পরে গত সপ্তাহে ফের বরখাস্ত হওয়া প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ‘ইয়োনহাপ’ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মই বেয়ে ইওলের বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন বরখাস্ত হওয়া প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর (প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস-পিএসএস) সদস্যরা। ইওলকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে রাতেই তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে তারা অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে ইওলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।