আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জঙ্গি হামলায় নিহত সেনা ও পুলিশ কর্মীদের রক্তে ভাসছে পাকিস্তানের মাটি। কোয়েটায় বালুচ বিদ্রোহীদের হামলায় ৯০ পাক সেনার মৃত্যুর পরে এবার খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক ও পেশোয়ারে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের গারিগাল চৌকিতে জঙ্গিদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ৯ সেনা জওয়ান। বালুচ বিদ্রোহী-সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের হামলায় দিশেহারা পাক সেনাবাহিনী। প্রাণে বাঁচতে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
গতকাল শনিবারই খাইবার পাখতুনখোয়ার লককি মারওয়াত, বান্নু, বাজাউর ও মোহমান্দ জেলায় সেনা ও পুলিশ শিবিরে একের পর এক হামলা চালিয়েছিল বালুচ বিদ্রোহী, টিটিপি জঙ্গিরা। জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশ জওয়ান। ওই হামলার কয়েক ঘন্টার মধ্যে কারাকের দুটি থানা এবং একটি গ্যাস স্টেশনে হামলা চালায় তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গিরা। কুখ্যাত জঙ্গি কাসিফ ওরফে জারার নেতৃত্বে ওই হামলা চলে। কারাক জেলার পুলিশ সুপার শাহবাজ এলাহি জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। থানায় কর্তরব্যরত পুলিশ কর্মীদের উপরে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পাল্টা গুলি চালান পুলিস কর্মীরা। রাতভর দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলে। জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান তখত-ই-নাসরাতি থানার সাব ইন্সপেক্টর নূর ইসলাম খান।
কারাকের পাশাপাশি পেশোয়ারের মিচিগেট থানার অন্তর্গত পাজগি ফাঁড়িতেও অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। জঙ্গিদের গুলিতে নজর আলি নামে এক পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘ডন’ জানিয়েছে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানা তহশিলের অন্তর্গত ডাবকোট গ্রামেও হামলা চালায় জঙ্গিরা। পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিযুদ্ধ চলে। ওই গুলির লড়াইয়ে জোহার নামে এক পুলিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।