আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লাহের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে শুরু করেছে ইজরায়েলে। ইতিমধ্যেই ৩০০-র বেশি ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে হামলা। আর ওই ওই প্রাণঘাতী হামলায় কমপক্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১০০ জন। আর গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০০ জনের বেশি। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকরা।
গত সপ্তাহেই লেবাননে হিজবুল্লাহের সদস্যদের কাছে থাকা পেজার ও ওয়্যারলেস হ্যান্ড সেটে (ওয়াকিটকি) সিরিয়ালি বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৩৭ জন। জখম হন আরও তিন হাজারের বেশি। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হাত থাকার অভিযোগ ওঠে। মোসাদের তরফেই পেজার ও ওয়াকিটকি সেটগুলিতে গোপনে বিস্ফোরক ভরে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই বিস্ফোরণের ঘটনার বদলা নিতে ইজরায়েলির দক্ষিণাঞ্চল ও বেকায় রকেট হামলা চালানো হয় হিজবুল্লাহের তরফে। ওই রকেট হামলায় ইজরায়েলের একাধিক সেনা সদস্য প্রাণ হারায়।
হিজবুল্লাহের হামলার জবাব দিতে সোমবার সকাল থেকেই লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা চালাতে শুরু করে ইজরায়েলের বিমান বাহিনী। হামলা চালানোর আগে লেবাননের নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ারও নির্দেশ দেয় ইজরায়েলি সেনা। তবে লেবাননের নিরীহ নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই ভয়ঙ্করে বিমান হামলা শুরু করে ইজরায়েলি বাহিনী। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা লেবাননে হামলা জোরদার করছি, উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদে তাদের বাড়িঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই অন্তত হিজবুল্লাহের ৩০০ ঘাঁটিতে আক্রমণ শানাননো হয়েছে। সংখ্যাটি আরও বাড়বে।’ লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখনও পর্যন্ত ১০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে যেমন নিরীহ মহিলা-শিশু রয়েছে, তেমনই রয়েছে চিকিৎসা কর্মীরাও।’