আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অপারেশন রাইজিং লায়নের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল আরও একটি গোয়েন্দা অভিযান শুরু করেছিল। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা কিছু ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযান শুরু করেছিল। জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে এই গোয়েন্দা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত তিনজন ব্যক্তির মাধ্যমে একটি রেকর্ডিংয়ের দ্বারা এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে হুমকি কলের নেপথ্য উদ্দেশ্য ছিল ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
ইরানি কর্মকর্তাদের ফোন করতে বাধ্য করা হয়েছিল ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য কর্মরত ফার্সি ভাষা বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের বলা হয়েছিল যে যদি তাঁরা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সমর্থন করা বন্ধ না করেন, তাহলে তাদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। এইভাবে প্রায় ২০ জন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি রেকর্ডিংয়ে একজন ইজরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে একজন প্রবীন ইরানি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তিনি বলছেন, “আমি আপনাকে এখনই পরামর্শ দিতে পারি। স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে পালানোর জন্য আপনার হাতে ১২ ঘণ্টা সময় আছে। অন্যথায় আপনি এখন আমাদের তালিকায় রয়েছেন জেনে নিন। আমরা আপনার ঘাড়ের শিরার থেকেও কাছাকাছি স্থানে রয়েছি। এটি আপনি মনে রাখুন। ভবিষ্যতে ঈশ্বর আপনাকে রক্ষা করুন।”
ইজরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, অস্ত্র উৎপাদন সুবিধা এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলিতে সামরিক আক্রমণ ছাড়াও এই ফোনকলগুলি ইরানের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর গোপন অভিযানের অংশ ছিল।
ইরানে হামলার প্রথম দিকে আইডিএফ ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ বাঘেরি সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হত্যা করে। এর পর, একটি ফোন কলে ইজরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের ডেকে এই হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করছি, মন দিয়ে শুনুন। আমি সেই দেশ থেকে ফোন করছি যে দেশ দু’ঘণ্টা আগে বাঘেরি, সালামি, শামখানিকে একে একে নরকে পাঠিয়েছে।”
একজন ইজরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছিলেন যে এই গোপন অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্বকে ভয় দেখানো যাতে প্রবীনদের হত্যা করা হলে নবীনরা সেই জায়গা না নিতে পারেন। ফোন কলের পাশাপাশি কিছু ইরানি আধিকারিক তাদের দরজায় রেখে যাওয়া চিঠির মাধ্যমে সতর্কীকরণ পেয়েছিলেন। আবার অন্যদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে বা তাঁদের স্ত্রীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল।