আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রধানের দাবি এই যুদ্ধবিরতিতে বড়সড় ভূমিকা রয়েছে আমেরিকার। অর্থাৎ ট্রাম্প বলেছেন বলেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষরত দুই দেশ। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও তিনি এমনটাই দাবি করেছিলেন।
ইরান ইজরায়েল যুদ্ধবিরতির পর জল্পনা ছড়িয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু বৈঠকে বসবে ইরান। জল্পনার কারণ অবশ্য মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের করা দাবি। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে আমেরিকা। বৃহস্পতিবার এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে ইরান।
দেশেরই এক সরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু বৈঠকে বসার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
সেই সঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু নিয়ে বোঝাপড়ায় এলে ইরান সবার আগে দেখবে তার নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত রয়েছে কিনা। সেসব বুঝেই পরমাণু বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে ইরান টেনে এনেছে ইজরায়েলের উদাহরণ। তাদের দাবি এমন পরমাণু বৈঠক এর আগে ৫ বার হয়েছিল ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের। তারপরেও তেল আবিব তেহরানকে আক্রমণ করতে দ্বিধা করেনি। শুধু তাই নয়, ইজরায়েল ইরানের একাধিক পরমাণুকেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে,পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা করেছে। তাই এই ধরনের বৈঠকের যৌক্তিকতা কোথায়?
বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার বিমান হানায় ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলি ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে এই তথ্য মেনে নেয় আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ , ইরানের বিদেশমন্ত্রীও। তাই ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে তবেই নির্ধারণ করা হবে আদৌ কূটনৈতিক পথে হাঁটা হবে কি না।