নিজস্ব প্রতিনিধি: এই মূহুর্তে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার প্রজাতান্ত্রিক দেশ সুদান উত্তপ্ত। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সুদানে পরিবারের খাবার জোগানের জন্যে মহিলাদের জোর করে সেনাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের ওমদুরমান শহর থেকে পালিয়ে আসা ২ ডজনেরও বেশি মহিলা বিস্ফোরক তথ্যটি সামনে এনেছে। তাঁদের কথায়, এই মূহুর্তে পরিবারকে খাওয়ানোর এবং অর্থ সংগ্রহের জন্য সৈন্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কই একমাত্র উপায়। সুদানের এই হামলা শহর জুড়ে কারখানাগুলিতে হচ্ছে।
এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একজন মহিলা জানিয়েছে, “আমার বাবা-মা দুজনেই খুব বৃদ্ধ এবং অসুস্থ। আমি কখনই আমার মেয়েকে খাবারের জন্য বাইরে যেতে দিইনি। কিন্তু আমি সৈন্যদের কাছে গিয়েছিলাম এবং খাওয়ার পাওয়ার জন্যে সেনাদের সঙ্গে যৌন লিপ্ত হওয়াটাই একমাত্র উপায় ছিল। এমনকী গত বছরের মে মাসে আমি একটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় সৈন্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য হই।”
প্রসঙ্গত, দেশটিতে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হামলা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে র্যাপিড বাহিনীর সংঘর্ষের দরুন সুদানের যুদ্ধ ভয়াবহতা আকার নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, মৃতের সংখ্যা দেড় লাখ হয়েছে। অসংখ্য মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। দেশটিকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। বেশকিছু মহিলা RSF যোদ্ধাদের যৌন নির্যাতনের বেদনাদায়ক কাহিনীও শেয়ার করেছেন। তাঁদের কথায়, সৈন্যরা পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশের বিনিময়ে মহিলাদের ধর্ষণ করছেন।
রীতিমতো তাঁদের শরীর এখন স্থানীয় বাজারে বিক্রিত মূল্য হয়ে গিয়েছে। একজন মহিলা বলেছেন, সৈন্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরেই তাঁদের খাবার, রান্নাঘরের সরঞ্জাম নিতে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শহরের প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা দাবি করছেন যে, তাঁদের চোখের সামনেই সৈন্যরা মহিলাদের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আসছে এবং তাঁদের ধর্ষন করছে। আর সেনার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকার করলেই তাঁদের মারধর করে পা পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।