আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১০ বছর ধরে স্ত্রীকে অজ্ঞান করিয়ে ৫০ পুরুষ দিয়ে ৯২ বার ধর্ষণ করানোর মতো শিহরে ওঠা ঘটনার আসামী ডোমিনিক পেলিকোতকে ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে ফ্রান্সের এক আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণে জড়িত বাকি ৫০ ধর্ষককেও দোষী সাব্যস্ত করে তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। যদিও আইনজীবীরা মনে করছেন, ‘অপরাধীদের গুরু দণ্ডে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আরও কঠোর সাজা দেওয়া উচিত ছিল।’ নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি ন্যক্কারজনক ঘটনার মূল পাণ্ডা ডোমিনিক পেলিকোতের আইনজীবী বিট্রিস জাভারো। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ তাঁর মক্কেল এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন কিনা, তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে জানানো হবে।’ রায়ে খুশি নন নির্যাতিতা গিস লে পেলিকোতের সন্তানরাও। হতাশা লুকোতে না পেরে তাঁরা বলেছেন, ‘এ তো গুরু পাপে লঘু দণ্ড’।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ জানিয়েছে, শিহরে ওঠার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ৭১ বছর বয়সী ডোমিনিক পেলিকোত ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা ইডিএফে কাজ করতেন। স্ত্রী গিস লে পেলিকোত ও সন্তানদের নিয়ে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যাভিগনোনের মাজান শহরে বাস করতেন। ২০১১ সাল থেকে স্ত্রীকে নিয়ে এক নোংরা ও ভয়ঙ্কর খেলা শুরু করেন। প্রথমে নিজের স্ত্রীকে নেশা করিয়ে অচেতন করে রাখতেন। তার পর অন্য পুরুষদের ডেকে এনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করাতেন। সেই ধর্ষণের ছবি মোবাইল ও ভিডিও ক্যামেরায় তুলে রাখতেন। পরে সেই ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে অন্যদেরও একই কাজে উৎসাহিত করে ডেকে আনতেন। স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর জন্য অনলাইনের মাধ্যমে ৫০ ব্যক্তিকে জোগাড় করেছিলেন ডোমিনিক। সেই ধর্ষকদের মধ্যে গাড়িচালক, দমকল আধিকারিক, একটি সংস্থার শীর্ষকর্তা, এমনকি সাংবাদিকও রয়েছেন। তাঁদের কেউ বিবাহিত, কেউ অবিবাহিত, কেউবা ডিভোর্সী। বেশির ভাগই একবার ধর্ষণ করেছিলেন। তবে কেউ কেউ ছয়বার পর্যন্ত এই ধর্ষণে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মোট ৯২ বার গিস লে পেলিকোত অন্য পুরুষের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। কী করে অন্য পুরুষদের দ্বারা বার বার ধর্ষিতা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারলেন না গিস লে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, , ধর্ষণের ঘটনার সময় স্ত্রীকে কড়া ডোজের নেশা করাতেন নরাধম ডোমিনিক। আর তার ফলে অনেকটা কোমাচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন গিস লে। টানা এক দশক এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল।
কীভাবে পাকড়াও হলেন নরাধম ডোমিনিক?
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি শপিং মলে তিন মহিলার আপত্তিকর ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে আটক হন ডোমিনিক। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে। তদন্ত শুরু করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। ডোমিনিকের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে গিস লে’র কয়েকশো আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখতে পান তদন্তকারীরা। ওই সব ছবি–ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, নিজের বাড়িতে অন্য পুরুষদের দিয়ে স্ত্রীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করিয়েছেন ডোমিনিক। মোট ৭২ জনকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৫০ জনের হদিশ পান তদন্তকারীরা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওই শিহরে ওঠার ঘটনার বিচার শুরু হয়। যদিও গিস লে পেলিকোতকে ধর্ষণ করা একাধিক অভিযুক্ত নিজেদের নির্দোষ হিসাবে দাবি করেছিলেন।