নিজস্ব প্রতিনিধি: মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন যেকোনও সময় এবং যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল আবারও। মঙ্গলবার দিনেই ঈশ্বর যেন মঙ্গলময় হয়ে উঠলেন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার(North Carolina) কাঠমিস্ত্রি জেরি হিকসের ওপর। জেরি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি এই দিন তাঁর সঙ্গে কি ঘটতে চলেছে। ব্যানার এলক এলাকায় কাঠমিস্ত্রির(Carpenter) কাজ করেই সংসার চলত জেরির। সেদিন ওই দোকানের পার্কিং লটে একটি ২০ ডলারের নোট পড়ে থাকতে দেখেন জেরি। স্বাভাবিকভাবেই সেটি কুড়িয়ে নিজের পকেটে রাখেন জেরি।
আরও পড়ুনঃ আরজি কর কাণ্ডের জের, কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা গিয়ে কি করা যায় ভাবতে ভাবতেই একটি লটারির টিকিট কিনে ফেলেন কাঠমিস্ত্রি। এটি ছিল স্ক্র্যাচ কার্ড টিকিট, অর্থাৎ চাপা দেওয়া অংশটি নখ দিয়ে অথবা কয়েন দিয়ে ঘসতে হবে। ঘসার পর কার্ডে যা পুরষ্কার লেখা থাকবে সেটি জিতে নেবেন ওই টিকিটের মালিক। শর্ত অনুযায়ী নিজের টিকিট ঘসে চোখ কপালে ওঠে জেরির, কারণ তাঁর টিকিটে পুরষ্কার হিসেবে লেখা ছিল ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার। এটি দেখামাত্রই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন কাঠমিস্ত্রি জেরি। এখন তিনি আর সামান্য কাঠমিস্ত্রি নন, ভাগ্য তাঁকে মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে কাঠমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি বানিয়ে দিয়েছে(Lottery Ticket Winner)।
বিজয়ী হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জেরি জানান, ‘আমি আসলে যে টিকিটটি কিনতে চেয়েছিলাম, সেই টিকিট খুঁজে পাইনি। তাই আমি এই টিকিট (এক্সট্রিম ক্যাশ) কিনেছিলাম।’ অবশ্য জেরির এই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারির প্রধান কার্যালয় থেকে গত শুক্রবার জেরি নিজের পুরস্কার বুঝে নিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনি এককালীন ছয় লাখ ডলার গ্রহণ করেছেন। পুরো অর্থ পেতে হলে তাঁকে অন্তত ২০ বছর ধরে তা গ্রহণ করতে হতো। তাই সেসব ঝামেলায় না গিয়ে কিছু কম হলেও এককালীন অর্থ গ্রহণ করার সুবিধাটি বেছে নিয়েছেন জেরি।
আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালে রমরমিয়ে দালালরাজ! পুলিশের জালে আটক ৪
যাবতীয় ট্যাক্স কেটে নেওয়ার পরও জেরি হাতে পেয়েছেন ৪ লক্ষ ২৯ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থেই যে জেরি কোটিপতি হয়েছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। লটারির থেকে জেতা প্রাপ্ত অর্থের একাংশ নিজের সন্তানদের সাহায্যে ব্যবহার করতে চান জেরি। এছাড়া ৫৬ বছর বয়স পেরোনোর পর অবসর গ্রহণ করে সেই অর্থ খরচ করবেন তিনি। লটারি জেতার আনন্দের মুহূর্তটি উপভোগ করতে সপরিবারে এক নামী রেস্তোরাঁয় গিয়ে সেখানকার সমস্ত খাবার চেখে দেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন জেরি।