নিজস্ব প্রতিনিধি: ইজরায়েলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট চারকর্মীকে বরখাস্ত করেছে। ‘নো অ্যাজিউর ফর অ্যাপার্থেইড’ নামের একটি প্রতিবাদী গোষ্ঠী জানিয়েছেন, ফোনের ভয়েসমেইলের মাধ্যমে মাইক্রোসফটের চারকর্মীকে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে। ওই কর্মচারীদের নাম, অ্যানা হ্যাটল, রিকি ফামেলি, নিসিরিন জারাদাত এবং জুলিয়াস শ্যান। অত্যাচারী ইজরায়েলকে সাহায্য করছে মাইক্রোফোন, এই দাবিতে সম্প্রতি মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয়ে তাঁবু টাঙিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া চারকর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরেই তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। জানা যায়, চলতি সপ্তাহে সাতজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সংস্থার প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের অফিসে অবস্থান ধর্মঘট করেন হ্যাটল ও ফামেলি। এরপর তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন মাইক্রোসফটের প্রাক্তন কর্মী ও বহিরাগত ছিলেন।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর দাবি ছিল যে, মাইক্রোসফট যেন ইজরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। মাইক্রোসফট ইজরায়েলকে গণহত্যা চালাতে সাহায্য করছে। তাই ইজরায়েলের সঙ্গে অবিলম্বে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে প্রতিবাদ দেখান বিক্ষোভকারীরা। এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংস্থার নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে চারকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে, ইজরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে, মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ক্লাউড সেবা ব্যবহার করে ইজরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ফোনকলের তথ্য সংরক্ষণ করছে এবং নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও এটা প্রথম নয়, এর আগেও ইজরায়েলের সঙ্গে মাইক্রোসফটের সুসম্পর্কের কারণে বেশ কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গন এ ধরনের প্রতিবাদের মুখে পড়ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ক্ষুধার্ত শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক ছবি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েল-হামাসের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন অনেকে। বর্তমানে খাদ্যসংকটে ভুগছেন গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা।