নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার দুর্গাপুজো যেন বনেদি বাড়ি ও থিমের পুজোর মিশেল। কিন্তু থিমের থেকেও মানুষে বেশি পছন্দের বনেদি বাড়ির পুজো। যে পুজোগুলি যেন প্রতি মুহূর্তে বাংলার নস্টালজিয়া বহন করে। কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর মধ্যে অন্যতম ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির ও পুজো। অর্থাৎ কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক এবং কোয়েল মল্লিকের বাড়ির পুজো। তাই প্রতিবছরই রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ির পুজোর দিকে নজর থাকে তিলোত্তমাবাসীর। এবার আবার কিংবদন্তির বাড়ির পুজো ১০০ বছর পূর্ণ হবে, সুতরাং আলাদাই গুরুত্ব বহন করবে এই পুজো। এমনটাই ধারণা ভক্তমহলের। কিন্তু সে গুঁড়ে বালি। প্রতি বছর পুজোর সময়ে মল্লিক বাড়ির দরজা জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত থাকে, কিন্তু এবার তা হবে না। জনসাধারণের জন্যে বন্ধ থাকবে কোয়েল মল্লিকের বাপের বাড়ির পুজো। বিষয়টি গতকালই সামনে এসেছে। অথচ গত ২ বছরে আমাদের ‘এই মূহুর্তে’-র পোর্টাল হাউসকে পুজোর নানারকম পরিকল্পনার কথা রঞ্জিত মল্লিক নিজেই জানিয়েছেন।
তাঁদের দালান বাড়িতে ঠাকুর মূর্তি গঠন থেকে দেশ বিদেশ থেকে নানারকম অতিথির আগমন এ সময় মল্লিক বাড়ি রীতিমতো রমরমা থাকে। বিয়ের পরেও পুজোর দিনগুলি মল্লিক বাড়ি ছাড়েন না অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। গতবার নাতি অর্থাৎ কোয়েল মল্লিকের ছেলের সঙ্গে অষ্টমীর দিন রঞ্জিত মল্লিকের খুনসুটি, বিসর্জনের দিন মল্লিক বাড়ির সবার জন্যে মেটের চচ্চরি, সবটাই মল্লিক বাড়ির পুজোর বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এবার কলকাতার দুর্গাপুজোর রেশ তেমন নেই বললেই চলে। পুজোর ঠিক দু মাস আগেই আরজি কর-হাসপাতালে ৩১ বছরের তরুণী চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা, গোটা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই তিলোত্তমার মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রাজপথে নামছেন সাধারণ মানুষ। তাই কি আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতেই, ১০০ বছরের পুজো জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত রাখছে না মল্লিক বাড়ি, এমন একাধিক প্রশ্ন নিয়ে আমরা আজ ফোনে যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম খোদ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে! এ বিষয়ে একটা প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা।
তাঁর কথায়, ‘চারিদিকে আমাদের কারোর মানসিক অবস্থা ভালো নয়। আমাদের পুজোর বয়স ১০০ বছর হল। এই একশো বছরে আমাদের বাড়ির পুজো কোনও দিন বন্ধ থাকেনা। পরিবারে বিপর্যয় এসেছে, এমনকী, মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেক্ষেত্রে পুজো হবে, কিন্তু উৎসব হবেনা। এ বছর আমরা একটা অদ্ভুত সময় ও পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আরজি করের মর্মান্তিক ঘটনা কেউ ভুলতে পারেনি। এ বিষয়ে আমি কোনও কথাও বলব না।দ পুজোর আনন্দটা প্রতিবারের তুলনায় তাই এবার অনেকটাই ম্লান। তবে পুজো হবে। বাড়িতে পুজোর আয়োজনও চলছে। কিন্তু উৎসব হবেনা। বাড়িতেই অনেক মানুষ থাকবেন, সেই কারণে আর সাধারণ মানুষদের জন্য এই বছর বাড়ির দরজা খোলা রাখা হবে না। তার জন্যে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।” ঠিক এমনটা বলেই ফোন রেখে দিলে অভিনেতা। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে প্রত্যেক বছরের মতো এবার মল্লিক বাড়ির পুজো ম্লান হয়ে গিয়েছে।