নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিন কয়েক আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল যে, হাঁটুর ব্যাথা কমাতে বিয়ার ভেবে টানা ১৫ দিন নিজের ‘মূত্র’ পান করেছিলেন প্রবীণ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। শুধু তিনি নন, বার্ধক্য রোধে ‘আশিকি’ অভিনেত্রী অনু আগরওয়ালও নিজের মূত্র পান করেছিলেন। এবার প্রকাশ্যে এল আরও একটি তথ্য! জানা গেল, অতীত জীবনে নাকি প্রবীণ গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার ১৮ বোতল বিয়ার একবারে পান করতেন। আসলে অতীত জীবনে মদ্যপানের সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়ে প্রায়শই খোলামেলা আলোচনা করেন প্রবীণ গীতিকার।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে জাভেদ আখতার জানালেন, “আমি যখন মাদকাসক্ত ছিলাম। তখন আমার হুইস্কিতে অ্যালার্জি ছিল। তাই হুইস্কির বদলে বিয়ার খাওয়া শুরু করি। একবারেই ১৮ বোতল বিয়ার খেতাম। এরপর আমার মনে হল যে, বিয়ার পান করে নিজের ক্ষতি কেন করছি, পেটের মেদ কেন বাড়াচ্ছি? এরপর আমি বিয়ার ছেড়ে দিয়ে রাম পান করা শুরু করি। তবে সেই সময় মদ খাওয়ার জন্যে আমার কোনও সঙ্গ দরকার ছিল না। কেউ যদি আশেপাশে থাকে তবুও আমার ভাল লাগত না। তাই আমি একা মদ পান করতাম।” ২০১২ সালে আমির খান সঞ্চালিত ‘সত্যমেব জয়তে’-এর একটি পর্বে প্রথমবার নিজের আসক্তির কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন জাভেদ আখতার। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি ১৯ বছর বয়সেই মদ্যপান শুরু করেছিলাম। স্নাতক শেষ করার পর যখন আমি মুম্বই আসি, তখন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান শুরু করি। পরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। আগে আমার কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না, কিন্তু সাফল্যের পর অর্থের কথা মাথায় রেখি মদ খাওয়া কমিয়ে দিই। তারপর এমন একটি সময় এসেছিল যখন আমি প্রতিদিন এক বোতল পান করতাম।”
এর আগেও প্রবীণ গীতিকারের স্ত্রী শাবানা আজমি জাভেদ আখতারের মদ্যপানের অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। এটি থেকে বের হতে, জাভেদ আখতার কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন সে সম্পর্কেও কথা বলেছিলেন। শাবানা জানিয়েছিলেন, “জাভেদ জানতেন যে তিনি যদি এভাবেই চলতে থাকেন,
তাহলে বেশিদিন বাঁচবেন না। সৃজনশীলভাবে কাজ করতে পারবেন না। এরপর আমরা লন্ডনের একটি ফ্ল্যাটে নিই। তার গা থেকে তখন মদের গন্ধ আসছিল, এটা আমার কাছে বিরক্তকর ছিল। আমি বললাম, ‘ওহ মাই গড, এবার মদ আমাদের ভ্রমণের অংশ হতে চলেছে। এরপর জাভেদ খুব শান্তভাবে আমাকে বললেন, ‘আমাকে কিছু খাবার দাও, তাহলে আমি পান করব না’। সেই দিন থেকে সে আর অ্যালকোহল স্পর্শ করেনি। যা আমাকে শান্তি দিয়েছিল।”