নিজস্ব প্রতিনিধি: খুব সাধ করে ভেবেছিলেন ১৯ ডিসেম্বর ভক্তদের সুখবর দেবেন যে, তিনি মা হতে চলেছেন। কিন্তু ১৮ ডিসেম্বরেই সব শেষ। স্ক্যান করে জানতে পারেন তিনি আর মা হতে পারবেন না, গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে তাঁর। IVF-পদ্ধতি ব্যার্থ হয়েছে অভিনেত্রীর। থেমে গেল সন্তানের হৃদস্পন্দন। নিমেষেই আনন্দ দুঃখে পরিণত হয়ে গেল জনপ্রিয় অভিনেত্রীর। আর গর্ভপাত হওয়ার ঘটনাই কাঁদতে কাঁদতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে আনলেন অভিনেত্রী সম্ভবনা শেঠ। হিন্দি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী তিনি। একাধিক সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন তিনি। হিন্দি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় মুখ। আজ ১৯ ডিসেম্বর প্রেগনেন্সির খবর জানাবেন ভেবেছিলেন অভিনেত্রী তাঁর ভক্তদের। কিন্তু ১৮ ডিসেম্বরে স্ক্যান করে জানতে পারেন, তাঁর শিশু বেঁচে নেই। গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন সম্ভাবনা। IVF পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু মা হওয়ার সাধ তাঁর পূরণ হল না। ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলেন অভিনেত্রী।
স্বাভাবিকভাবেই তিন মাসের বাচ্চাকে হারিয়ে সম্ভাবনা এবং তাঁর স্বামী অভিষেক শেঠ এখন শোকাচ্ছন্ন। একই ভিডিওর মাধ্যমে অভিনেত্রী পুরো ব্যাপারটা জানিয়েছেন। যেখান তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। অভিনেত্রীর স্বামী অবিনাশ জানিয়েছেন, চিকিৎসকের প্রতিটি নির্দেশনার যত্ন নিয়েছেন সম্ভবনা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। প্রথমবার স্ক্যানে তাঁরা ভেবেছিলেন তাঁদের যমজ সন্তান হবে। কিন্তু সব আশা নিরাশায় বদল হয়ে গেল মুহূর্তেই। শিশুর হার্টবিট চলছিল। কিন্তু শেষ করা স্ক্যানে তাঁকে দেখতে পাননি চিকিৎসকেরা। কিন্তু কেন এমনটি হল, এ বিষয়ে একেবারে অজানা তাঁদের। অবিনাশ আরও জানিয়েছেন, ‘প্রতিদিন সম্ভাবনাকে ২-৪ টি ইনজেকশন নিতে হচ্ছিল। সেই কারণে অনেক ব্যথাও সহ্য করতে হয়েছিল সম্ভাবনাকে। মানসিক দিকে পাশাপাশি আর্থিকভাবেও অনেক বিনিয়োগ করেছেন। সম্ভবনা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। তাঁর দুঃখ আমি সহ্য করতে পারছিনা। অভিনেত্রীর গর্ভাবস্থার কারণেই আমরা এতদিন কম ভ্লগ বানিয়েছি। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার আমরা ভ্লগ বানাবো। আর তাতেই সম্ভাবনার যন্ত্রণা কাতর হওয়ার বিষয়টি জানাব। সম্ভাবনার শরিরের একাধিক সমস্যা ছিল। দিনভর দুশ্চিন্তা করত। যাতে শিশুটির কোনও ক্ষতি না হয়। কিন্তু আমরা শেষমেশ তাঁকে বাঁচাতে পারলাম না। এখন আমাদের হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।’
অন্যদিকে ৪৪ বছর বয়সী সম্ভাবনা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগে তাঁর পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, হয়তো গর্ভপাতের কারণেই তাঁর পিঠে ব্যথা হয়েছে। ২০১৬ সালে অবিনাশকে বিবাহ করেন সম্ভাবনা। আগে চারবার তাঁরা IVF পদ্ধতিতে গর্ভধারণের চেষ্টা করে ছিলেন। পঞ্চমবার সাফল্য পেলেও গর্ভাবস্থার ৩ মাস পরেই তাঁর গর্ভপাত হয়ে গেল।