নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানে দিনভর কলকাতার অন্য চিত্র দেখেছে গোটা তিলোত্তমা। আজ যেন কারো নজর টিভির পর্দা থেকে হঠেনি। যদিও গত ৯ অগস্ট থেকেই কলকাতার অন্যরূপ দেখেছে সকলে। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের পর রীতিমতো তেঁতে উঠেছে যুবসমাজ। সেই প্রতিবাদে দফায় দফায় মিছিল বের করছে সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি সকলেই। আর আরজি কর-কাণ্ডেই আজ নবান্ন অভিযানে নামে ছাত্রসমাজ। কোথাও যাতে আন্দোলন রুদ্ররূপ না ধারণ করে সেই কারণে আগে ভাগেই গোটা কলকাতা জুড়ে প্রায় ১৫০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের লাঠিচার্জে আন্দোলন বিকেলের আগেই দমে যায়। মৃতার সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিচারে প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হয়েছেন রুপোলি পর্দার তারকারাও। কিন্তু আজ দিনভর কলকাতায় নবান্ন অভিযানে ছাত্র সমাজের আন্দোলনের কারণে বন্ধ ছিল দোকানপাঠ, রাস্তাঘাটও ছিল শুনশান। কিন্তু শুটিং কি আদেউ চলেছে টলিপাড়ায়? আসলে মাসে একদিন ছুটি ছাড়া রোজ টেলিপাড়ায় ক্যামেরা চলে। না হলে ধারাবাহিকের নিয়মিত সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। এ দিনেও কি সেখানে পুরোদমে কাজ চলছে?
এই প্রসঙ্গে একটি সংবাদ মাধ্যমকে ছোট পর্দার নায়ক-নায়িকা, প্রযোজকদের বক্তব্য, সামনেই পুজো। তাই ধারাবাহিকের বাড়তি পর্ব ব্যাঙ্কিংয়ের চাপ রয়েছে। শারদীয়ার জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানেরও শুটিং চলে। তাই এই মূহুর্তে টেলিপাড়ার দম ফেলার সময় নেই। তাই প্রত্যেকটি ধারাবাহিকের শুটিং নিয়মিত চলছে। যে হেতু পুরো বিষয়টি নবান্নকে কেন্দ্র করে, তাই টালিগঞ্জে কোনও চাপ তৈরি হয়নি। অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিয়েছেন। এমনি দিনেও প্রতিবাদ করতে গেলে সারা দিন কাজের পরে প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নিয়েছেন অভিনেতারা। পুজোর যেহেতু চাপ রয়েছে তাই অভিনেতাদের যাতায়াতেও কোনও অসুবিধা হয়নি। অন্যদিকে ধারাবাহিক ‘নিমফুলের মধু’র নায়িকা পল্লবী শর্মা জানিয়েছেন, নবান্ন অভিযানের প্রভাব তাদের স্টুডিও পাড়ায় হয়নি। অনায়াসেই যাতায়াত করছেন। আর এখন ছুটি মানেই বিপদ। ফলে, প্রত্যেকে কাজে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
অন্যদিকে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু জানিয়েছেন, পারিবারিক কারণে এদিন তিনি ছুটিতে। অনেক দিন ধরে বাড়ির কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ জমে থাকায় তিনি ছুটিতে নিয়েছেন। তবে আজ ধারাবাহিক ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’র সেটও বন্ধ। কিন্তু কি কারণে শুটিং বন্ধ তা জানতে পারেননি।