নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সিনেমার প্রচারের নামে বাংলায় গিয়ে জঙ্গি স্লিপার সেল গঠনের কাজ করতে পারেন এমন আশঙ্কায় ঢাকাই সিনেমার বিতর্কিত নায়িকা পরীমণির ভিসার আর্জি ফের খারিজ করে দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস। ওপার বাংলার ছবি ‘ফেলু বক্সী’তে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরী। আগামিকাল শুক্রবারই (১৭ জানুয়ারি) ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। ওই ছবির প্রিমিয়ারে হাজির থাকার জন্য ভারতীয় দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেছিলেন নায়িকা। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি পরীর ভিসার আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এক আধিকারিক (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় পরীমণির ওপরে ভিসা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু পরীমণি নয়, আজমেরী হক বাঁধন সহ ঢাকার চার নায়িকাকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের ভিসা বাতিল নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র ‘কালবেলা’-কে পরী বলেছেন, ‘মনটা খুবই খারাপ। ১৪ জানুয়ারি আমার ভিসা রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। এখন মন খারাপ করে ঘরে বসে আছি। তবে আমি যাব।’
সূত্রের খবর, গত জুলাই মাসে শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে ‘অপারেশন সাইক্লোন’ মিশন চালু করেছিল, সেই মিশনে জড়িত ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন, তাসনিয়া ফারিন ও পরীমণি। তিন জনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে রাস্তায় নেমে শেখ হাসিনা ও ভারত বিরোধী শ্লোগান দিয়েছিলেন। আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন। এমনকি করাচি থেকে আসা আইএসআইয়ের তিন ডিপ অ্যাসেটকে নিজেদের বাড়িতে অস্থায়ী ডেরা বাঁধতে দিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, গত জুলাই-অগস্টে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা আজমেরী হক বাঁধন-পরীমণি ও তাসনিয়া ফারিন, তানজিন তিশারা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে করাচি থেকে ঢাকায় আসা পাক গুপ্তচর সংস্থার ‘ডিপ অ্যাসেটদের’ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন বাঁধন ও পরী। শুধু তাই নয়, ঢাকাস্থ পাক দূতাবাসের দ্বিতীয় শীর্ষ আধিকারিক কামরান ধাঙ্গালের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দু’জনের। পাক গুপ্তচর সংস্থা চার অভিনেত্রীকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জঙ্গি স্লিপার সেল গঠনের কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে ভারতীয় দূতাবাসকে আগাম সতর্ক করে দিয়েছেন সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সেই কারণেই তাসনিয়া ফারিন, আজমেরী হক বাঁধন ও পরীমণিকে ভারতে ঢোকার ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধনের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগের বিষয়টি নজরে আসে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। যে কারণে গত এপ্রিলে বেঙ্গালুরু চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি হিসাবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেলেও বাঁধনকে ভিসা দেয়নি ভারতীয় দূতাবাস। শুধু তাই নয়, ভারতে যতদিন শেখ হাসিনা থাকছেন ততদিন পরীমণি-বাঁধনকে ভিসা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।