নিজস্ব প্রতিনিধি: টলিউডের স্বনামধন্য অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শুধু টলিউড নয়, বলিউড এবং দক্ষিণী ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। অন্যতম নিপুণ এবং দক্ষ অভিনেতা তিনি টলিউডের। আজ এই মহান অভিনেতার জন্মদিন। ১৯ ডিসেম্বর ৫৪ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সকাল থেকেই অভিনেতাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্তরা। তাঁর অভিনয় নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তবে তাঁকে কাছ থেকে যিনি চেনেন, অর্থাৎ অভিনেতার অর্ধাঙ্গিনী মহুয়া চট্টোপাধ্যায়, তিনি কী বলছেন? মানুষটা কেমন? প্রবীণ অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিনীত ছবির তালিকায় রয়েছে একাধিক সুপারহিট হিন্দি-বাংলা-দক্ষিণী চলচ্চিত্র। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে একটি সংবাদমাধ্যমকে অভিনেতার একাধিক অজানা তথ্য জানিয়েছেন মহুয়া চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাঁদের সম্পর্কের একাধিক খুনসুঁটির কথা।
তাঁর কথায়, মহুয়ার এক দিদির বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল শাশ্বতর সঙ্গে। প্রথম দেখাতেই তাঁর আকার নিয়ে নানারকম ব্যাঙ্গ করছিলেন অভিনেতা। যাতে খুব বিরক্ত হয়েছিলেন মহুয়া। পরে শাশ্বতই তাঁর দিদির কাছ থেকে তাঁর নম্বর নেয়। তখন মোবাইল ছিল না, তাই ল্যান্ডফোনেই শুরু হয় তাঁদের প্রেমালাপ। শাশ্বত তখন চুটিয়ে ছবির কাজ করছেন। কোনও দরকার হলে শ্বশুর মশাইয়ের কাছে যেতেন। খুব মিল ছিল তাঁর প্রবীণ অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তখনও মহুয়ার বাড়ির লোকজন তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে কিছু জানতেন না। তাঁর বাবা ছিলেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। প্রথমে বিয়ের জন্যে শাশ্বতর বাবাই মহুয়ার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বরাবরই স্বাধীনচেতা ছিলেন, চাকরি করতেন। কিন্তু অভিনেতা পরিবারে বিয়ে হবে, তার কাকা পিসিরা ভালভাবে নেননি। এরপর বিয়ে হয় তাঁদের। বিয়ের পর জামাই শাশ্বত বলতে অজ্ঞান তাঁর বাবা। তবে শাশ্বতকে বিয়ে করে প্রথম প্রথম তিনিও ভয় পেতেন। কারণ অভিনেতা বলে কথা! চারপাশে সুন্দরীদের ভিড়, তাঁর কাকা-পিসিদের কথা না সত্য হয়ে যায়!
কারণ প্রেম করে তিনি শাশ্বতকে চিনতে পারেননি। অভিনেত্রীরা স্বামীর গা ঘেঁষত, মোটেই পছন্দ ছিল না মহুয়ার। পরে তাঁর শ্বশুরমশাই অস্বস্তি, ভয় কাটান মহুয়ার। এরপর তাঁর বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। বন্ধুত্ব হয় কিছু মানুষের সঙ্গে। তিনি একজন শিক্ষিকা। তাঁর স্কুলের বন্ধুরা ব্যঙ্গের নজরে দেখতে শুরু করে তাঁকে। কেননা সেলেব্রটির স্ত্রী বলে সারাক্ষণ ঠাট্টা করত তাঁরা। তাঁর কলেজের সহকর্মীরাও কেউ কেউ এই ধরনের আচরণ করতেন। তবে তিনি এ সব জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের একেবারে শুরুতে শাশ্বত তখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রাণপণ লড়ছেন। কোনও ছবিতে বাদ পড়লে কাউকেই কিছু প্রকাশ করতেন না। কারণ তিনি খুব চাপা। তবে খুব মজা করে কথা বলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এভাবেই এতগুলো দিন কাটিয়ে ফেললেন তাঁরা। তবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বাস্তবে একেবারে সেকেলে। হালে ফোন নিয়েছে্ন। সেটা যত্রতত্র ফেলে রাখে। কথায় মারপ্যাঁচ নেই। ‘রোম্যান্টিসিজ়ম’ নেই। যখন-তখন চূড়ান্ত রসিকতায় মেতে ওঠে। আজ পর্যন্ত বাজার করতে শেখেননি। হাতের কাছে তাঁকে সব গুছিয়ে দিতে হয়ে। খেতে ভালবাসে্ন। এখন তো আবার ফিগার কন্ট্রোল করতে মন ভরে খেতেও পারেন না। কিন্তু রেগে তিনি একেবারে চুপ। তবে মেয়ের কাছে তিনি একেবারে জব্দ। মেয়েকে নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তিনি। মেয়ে রাত করে বাড়ি ফিরলে যেখানেই থাকেন সেখান থেকে মেয়ের খোঁজ নেন। তারপর ঘুমোতে যান। তাই মহুয়ার বিশ্বাস, এরকম মানুষকে কেউ ভালবাসবে না।