নিজস্ব প্রতিনিধি: বাপের বাড়িতে এসেছিলেন ৪ দিনের জন্যে, সকলকে কাঁদিয়ে আজ শনিবার উমার নিরঞ্জনের দিন। যদিও হিসেবমতো দশমী। নিয়ম মেনে বনেদি বাড়ির দুর্গার আজ বিসর্জন হবে, সেক্ষেত্রে আগামিকাল বিসর্জন হবে অন্যান্য পুজো গুলির। বিশেষত, দুর্গাপুজোতে নজর কেড়ে নেয় বনেদি বাড়ির পুজোগুলি। কারণ এক একটা বনেদি বাড়ির নিয়ম এক এক রকম। তাই সেক্ষেত্রে মানুষের কাছে তা আকর্ষণীয়। তেমনি একটি বনেদি বাড়ির পুজো হল, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার টাকির পুবের বাড়ির বনেদি পুজো। নিয়ম তিথি মেনে আজ ইছামতি নদীতে উমাকে পান্তা ভাত কচু শাক খাইয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৪ বেয়ারের কাঁধে চেপে মা কৈলাসের পথে পাড়ি দিয়েছেন। একাধিক নিয়মে মোড়া এই জমিদার বাড়ির পুজো।
সারাবছর পর্যটকের ভিড় জমে এখানে। তাই তাঁদের জন্যে উমার জায়গায় অন্য এক প্রতিকৃতি উমাকে রেখে গেলেন উমা। হিন্দু শাস্ত্র মতে আজ বিজয় দশমী সেই উপচার মেনে। তাই নিয়ম মেনে, এই এলাকায় উত্তর ২৪ পরগনার টাকির পুবের বাড়ি বিসর্জন আগে হয়, এরপর অন্যান্য জমিদার বাড়ির এবং ক্লাবের উমারা আস্তে আস্তে নিরঞ্জনের পথে বাঁক নেয়। পুবের জমিদার বাড়ির উমার বিসর্জনেল পর একে একে ঘোষ বাড়ি, মুখোপাধ্যায় বাড়ি, বন্দোপাধ্যায় বাড়ি-সহ একাধিক জমিদার বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন হয়। একাধিক নিয়মে মোড়া এই বনেদি বাড়ির পুজো। কচুর শাক আর পান্তা ভাত খেয়ে মায়ের বিদায় হয়। প্রথা অনুযায়ী, কৈলাসে যাওয়ার পর যখন শিব উমাকে জিজ্ঞাসা করে বাপের বাড়ি থেকে কি খেয়ে এলে, তখন উমা বলেন কচুর শাক আর পান্তা ভাত। যেহেতু উমার বাবা গরিব মানুষ। এছাড়া মায়ের বিসর্জনের আগে মাকে প্রদক্ষিণ করেন বাড়ির সকলে। গামলার জলে উমার মুখ দেখাতে হয়। এছাড়া কোনও যানবাহনে মায়ের যাত্রার নিয়ম নেই।
তাই মানুষের কাঁধে চেপে মা কৈলাসের পথে পাড়ি দেন। এই বাড়ির একজন সদস্য শর্মিষ্ঠা ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আমাদের পুরোটাই নিয়ম মেনে উমাকে আপার বাপের বাড়ি পাঠানো হয়। বিশেষ করে কচু শাক পান্তা ভাত মা যাওয়ার আগে খেয়ে যাবেন। তারপরে কৈলাসে পা রাখবেন। বাকি কচু শাক পান্তা ভাত চব্বিশ বেয়ারা খাবে।তারপর বাসিন্দাদের হাতে সেই খাবার তুলে দেওয়া হবে।সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মঙ্গল যাত্রা হয়।তারপর দালাল থেকে প্রতিমা বের করা হয় তাকে বরণ করার পর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ২৪ বেহারা কাঁধে চড়ে দু কিলোমিটার পেরিয়ে মাকে ঘোষ বাবুর ঘাটে গিয়ে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। তারপর একে একে মিষ্টি মুখের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমী শুরু হয়।’ আর সারাবছর মায়ের প্রতিকৃতি উমার জায়গায় রেখে দেওয়া হয়। যাতে পর্যটকরা নিরাশ না হন।