Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

পুজোর ভ্রমণ: অজানার পথে রুপার্ক ভিলেজ হয়ে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর

কথায় আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। আর শীতের মরসুমে তো সবাই একটু আধটু ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাঙালির সাধের পর্যটনে

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। আর শীতের মরসুমে তো সবাই একটু আধটু ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাঙালির সাধের পর্যটনে বাধ সাধছে করোনা মহামারী। তবে এখন করোনার থাবা অনেকটাই কম। তার ওপর বাংলার ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের করোনার টিকাকরণ শেষ হয়েছে। ফলে আসন্ন পুজো মরশুমে অনেকেই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্য়ান করেছেন। তবে এই সময় ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি সবচেয়ে বেশি খোঁজ করছেন কোনও অফবিট স্থানের। যেখানে কয়েকটা দিন হাত-পা ছডি়য়ে কাটানো যাবে। ভিড়ভাট্টাও বেশি হবে না। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে নির্জনতাকে সঙ্গী করে পরিবার নিয়ে নিছক ছুটি কাটানোই শুধু নয়, প্রাণ ভরে নিঃশ্বাসও নেওয়া যাবে। আজ আপনাদের বলবো সেরকমই এক অফবিট জায়গার গল্প। তবে সেটা এই রাজ্য়ে নয়, পড়শি রাজ্য় ওড়িশার।

পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে একটু এবার একুটি পাড়ি জমান পাশের রাজ্যে। চলে যান ওড়িশায়। কলকাতা থেকে গেলে গাড়িতে প্রায় ৫ ঘন্টা লাগবে আর ট্রেনে মাত্র ঘন্টা তিনেক। বালাসোর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে থেকে ২৮ কিমি দূরেই পাবেন পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির। এখানে পাবেন পঞ্চলিঙ্গেশ্বর পাহাড় ও দেবীকুণ্ড ঝরনা, এছাড়াও যেতে পারেন সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্টে। এছাড়া ঘুরে আসুন নীলগিড়ি পাহাড়ের কোলে সুন্দর গ্রাম রুপার্কে। এখানেই আছে সাজানো গোছানো একটি ভিলেজ রিসর্ট। গ্রামের নামেই রিসর্টটি। দুই-তিন থেকে আশেপাশের দর্শনীয় স্থান দেখে নিতে পারেন।

আপাদমস্তক সবুজে মোড়া রুপার্ক ভিলেজ (Roopark Village)। ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম। সাকুল্য়ে গোটা পঞ্চাশেক বাড়ি নিয়ে গ্রামটি। তবে ছোট হলেও অতি পরিপাটি, সুন্দর করে সাজান গোছান ছবির মতো সুন্দার এই রুপার্ক গ্রাম। চারিদিকে ঘন জঙ্গলে ঘেরা স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রাম এই রুপার্ক। বিড়ি তৈরির মূল উপাদান কেন্দু পাতা সংগ্রহ করাই এখনকার আদিবাসীদের প্রধান উপার্জন। রাত হলেই ভেসে আসবে মাদলের আওয়াজ। তবে এই রিসর্টে আদিবাসী নাচ (Tribal Dance) দেখানোর ব্য়বস্থা আছে।

বালাসোর থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথ দেবকুণ্ড। বালাসোর থেকে ৮৫ কিমি ও বারিপদা থেকে ৬০ কিমি দূরে এই স্থান। এখানকার মানুষজনদের আজও বিশ্বাস দেবতারা প্রত্যেক দিন এই কুন্ড বা ঝর্ণা তে স্নান করতে আসেন। এখানে পাঁচটি ঝর্ণার জল পাঁচটি কুন্ডে এসে পড়ে এবং সেই কারণেই এই স্থানের অপর নাম পঞ্চ কুন্ড। এই পাঁচটি কুন্ডের নাম অমৃতকুন্ড, ঘৃতকুন্ড , হলদিকুন্ড ,দেবকুন্ড ,এবং দেবীকুন্ড। এরমধ্য়ে দেবীকুণ্ড বা দেওকুণ্ড। এই কুণ্ডের পাশ দিয়ে উপর দিকে ৩৬০টি সিঁড়ি বেয়ে উঠলে নদীর উৎস মুখের নিকটে দেবী অম্বিকার মন্দির। বর্তমানে ওড়িশা সরকার এই স্থানটি দূষণমুক্ত রাখতে সেখানে কোনপ্রকার চড়ুইভাতি
বা গাড়ি কুন্ডের কাছে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তাই গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে মন্দিরে ওঠার সিড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার হাঁটতে হবে জঙ্গলের মধ্য়ে। এই দেড় কিলোমিটার পথ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে খুবই সুন্দর। বিভিন্ন পাখি ও জীবজন্তুও দেখতে পাওয়া যায়। মূলত এটি হাতিদের সংরক্ষিত এলাকা। গভীর জঙ্গলে অতি মনোরম পথ, নানান পাখির ডাক শুনতে শুনতে পথ চলা সে এক মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে আপনাদের। দেবকুণ্ডের এই মন্দিরটি উড়িষ্যার মৌরভঞ্জের রাজা ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করেছিলেন। এটি সতীপীঠের অন্য়তম, এখানে সতীর বাঁপায়ের পাতা পড়েছিল। এই মন্দিরের কাছেই আছে জানকিশ্বর মন্দির। এই শিবলিঙ্গকে উদ্ভব লিঙ্গও বলে। কারণ এই লিঙ্গ নিজের থেকে মাটির নিচে থেকে উদ্ভব হয়েছে। মন্দিরটি চারিদিক থেকে সুন্দর বনানীতে ঘেরা, অতি মনোরম স্থান। প্রতি শিবরাত্রির সময়ে এখানে ১৫ দিন ধরে মেলা বসে। মূল মন্দিরটি মাটির কিছুটা নীচে।

এবার চলুন পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। বালাসোর থেকে মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের পথ। নীলগিরি পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে ভগবান শিবের এই মন্দির। ভগবান শিবের পাঁচটি লিঙ্গের জন্য এটি ধর্মীয় ভাবে খুব প্রসিদ্ধ জায়গা। পঞ্চলিঙ্গ থেকেই নাম হয়েছে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। এর পাশে ঝর্ণার উপস্থিতি চোখ জুড়িয়ে যায়। শিবের লিঙ্গের উপর দিয়ে প্রবহমন ঝর্ণার উপস্থিতি স্থান মাহাত্ম আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ৩০৫টি সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দিরে পৌছান যায়। যদিও সিঁড়ি টপকাতে খুব বেশী কষ্ট হয় না। এমনকি বয়স্ক মানুষরাও এই সিঁড়ি টপকাতে পারেন। এটি ট্রেকিং এর জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে ওড়িষা পর্যটন দপ্তরের থাকার জন্য পান্থনিবাস আছে। এই টিলার চারপাশের পরিবেশও বেশ গা ছমছমে। চারপাশ ঘিরে রয়েছে অসংখ্য় আম, শিরীষ, শাল, চাকুন্দি, অশোক, আকাশমণি গাছ। বুনো ফুলের গন্ধ ভেসে আসে বাতাসে। দুপুরেও শান্ত স্নিগ্ধ ছায়া ঢেকে রাখে চারদিক। ট্রেকিংয়ের জন্য় আদর্শ এই জায়গা।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে মাত্র ৫৬ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে আরও এক আকর্ষণীয় জায়গা। যার নাম কুলডিহার জঙ্গল। এই জঙ্গলের এমনই মনোরম পরিবেশ যে, আপনার অন্দরের রোমান্টিক সত্তা জেগে উঠতে বাধ্য। দু’পাশে শাল, সেগুন, ছাতিম গাছের ঘন জঙ্গল। মাঝখান দিয়ে মোরাম বিছানো লালমাটির রাস্তা। গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ, পাখির কলতান, বিশুদ্ধ শীতল বাতাস, সব মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা। কুলডিহা অরণ্য লাগোয়া রিসিয়া ড্যাম আরও এক আকর্ষণ। ২৭২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত কুলডিহার জঙ্গলে হরিণ, হাতি, লেপার্ড ঘুরে বেড়ায় নিশ্চিন্তে।


কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?

হাওড়া থেকে বালেশ্বর বা বালাসোর যাওয়ার জন্য ১২৮২১ ধৌলি এক্সপ্রেস, ১২৭০৩ ফলকনুমা এক্সপ্রেস, ১৮৬৪৫ ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস, ১২৮৪১ করমণ্ডল এক্সপ্রেস, ১৮৪০৯ শ্রীজগন্নাথ এক্সপ্রেস, ১২৪৬৩ হাওড়া-যশবন্তপুর এক্সপ্রেস, ১২৮৩৭ পুরী এক্সপ্রেস ইত্যাদি ট্রেন পাবেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় ধৌলি এক্সপ্রেস ধরতে পারলে। তবে দিনের দিন পৌঁছে যেতে পারবেন। বালাসোর স্টেশন থেকে স্থানীয় গাড়ি বুক করে রুপার্ক ভিলেজ যেতে পারেন, আবার ওই রিসর্টে আগাম বলে রাখলেও ওরা গাড়ি পাঠিয়ে দেবে।

রুপার্ক ভিলেজে (Roopark Village) থাকার জন্য় সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট বা যেকোনও ট্রাভেল ওয়েবসাইটে গিয়ে বুক করতে পারবেন। আর পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা হল ওডিশা পর্যটনের পান্থনিবাস। ফোন নম্বর: ০৬৭৮২-২১১৯৫৯/06782-211959) অথবা ইমেল করতে পারেন, otdc@panthanivas.com এই ঠিকানায়।

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00