নিজস্ব প্রতিনিধি: অসমের ট্যাটু শিল্পীর মরদেহ উদ্ধার হল মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলার মূর্তাজাপুর শহর থেকে। হাড়িহিম করা ঘটনা! ২৬ বছর বয়সী ওই ট্যাটুশিল্পীর মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ তাঁর প্রেমিক তাঁকে হত্যা করেছে এবং সে এখন পলাতক। তবে তাঁর খোঁজ চলছে, পেলেই গ্রেফতার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের বন্ধুত্ব হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মূর্তাজাপুর থানার ওসি বলেছেন, ‘ট্যাটুশিল্পীর নাম শান্তিক্রিয়া কাশ্যপ ওরফে কোয়েল। তিনি মূর্তাজাপুরের প্রতীক নগর এলাকার একটি বাড়িতে প্রেমিক কুনাল ওরফে সানি শ্রিংগারের সঙ্গে থাকতেন।
ওই তরুণীর মৃতদেহ দেখে মনে হয়েছে, তাঁকে একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এবং তাঁকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিক এখন পলাতক।’ পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েল কাশ্যপ মুলত অসমের বাসিন্দা। গত ছয় বছর ধরে সে তাঁর মায়ের সঙ্গে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। ট্যাটুশিল্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তিনি অসম থেকে দিল্লিতে চলে আসেন। দিল্লির পরে তিনি গত কয়েক মাস ধরে মুম্বইতে কাজ করছিলেন। তাঁর সঙ্গে কুণালের সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর প্রেমিকই তাঁকে চাকরি খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহারাষ্ট্রের মূর্তিজাপুরে ডেকেছিল। সেই অনুযায়ী কোয়েল গত ২১ জুলাই মূর্তিজাপুরে চলে যান এবং প্রেমিকের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
কুণাল ওরফে সানি শ্রিংগার মূর্তিজাপুরে একটি বারে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। এরপর তিনি নিহত ট্যাটুশিল্পীকেও কাজের জন্যে বারে নিয়ে যান কিন্তু বারের মালিক তাঁকে কাজে নিতে অস্বীকার করেন। জানা যায়, সানি শ্রিংগারের মদ্যপান করার নেশা ছিল, গত ২৩ জুলাই নিহতর সঙ্গে তাঁর ব্যপক ঝগড়া হয়েছিল এই মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করে। তখনই সে রাগের বশে কোয়েলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। পরদিন অভিযুক্ত সানি শ্রিংগারের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশকে ফোন করে এবং পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ট্যাটুশিল্পীর দেহ উদ্ধার করেন। ততক্ষণে সানি পালিয়ে যায়। তাঁকে এখন ধরার চেষ্টা চলছে। ভারতের ন্যায় সংহিতা আইনের ১০৩ ধারার অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।