নিজস্ব প্রতিনিধি্ মুম্বই: সদ্য মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় রায় বেরিয়েছে। NIA-এর বিশেষ আদালত বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ৭ জনকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছে। এই ৭ জনের মধ্যে একজন হলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। মালেগাঁওয়ের ঘটনায় তাঁর সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি প্রজ্ঞা এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি বলেছেন যে ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তর প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং অন্যদের নাম উল্লেখ করার জন্য তদন্তকারীরা তাঁকে জোর করার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রাক্তন সাংসদের এই দাবি মামলার রায় ঘোষণার ঠিক পরপরই প্রকাশ পেয়েছে। শনিবার প্রজ্ঞা ঠাকুর বলেন, “ওরা আমাকে প্রবীণ বিজেপি নেতা রাম মাধব সহ বেশ কয়েকজনের নাম বলতে বাধ্য করেছিল। যাতে আমি নাম বলি তার জন্য আমার উপর নির্যাতন চালানো হত। একসময় আমার ফুসফুস আর কোনও কাজ করত না, তখন আমাকে অবৈধভাবে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। এই সবই আমি যে আত্মজীবনী লিখছি তার অংশ হবে, সত্য লুকানো যাবে না। আমি গুজরাতে থাকতাম, তাই ওরা আমাকে প্রধানমন্ত্রী মোদির নামও নিতে বলেছিল। আমি কারও নাম নিইনি কারণ ওরা আমাকে দিয়ে মিথ্যে বলানোর চেষ্টা করছিল।”
একজন সাক্ষীও দাবি করেছেন যে তাঁকে যোগী আদিত্যনাথ এবং আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত আরও চারজনকে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার মধ্যে সংগঠনের একজন সিনিয়র সদস্য ইন্দ্রেশ কুমারও ছিলেন। অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) প্রাক্তন সদস্য মেহবুব মুজাওয়ারও সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা তাঁকে আরএসএস প্রধান ভাগবতকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃত হন। মুজাওয়ার স্পষ্ট বলেন তাঁর ঊর্ধ্বতনদের দেওয়া আদেশের নেপথ্য উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ‘ভুল দিকে’ পরিচালিত করা এবং এই মালেগাঁও বিস্ফোরণকে ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
২০০৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতে মালেগাঁওয়ের ভিক্ষুচকের কাছে বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। একটি ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে বাইকের সঙ্গে আটকানো ছিল দুটি বোমা। মালেগাঁও এমনিতেই সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল শহর। ফলে এই ঘটনা এই শহরের বুকে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে মহারাষ্ট্র অ্যান্টিটেরোরিস্ট স্কোয়াড (ATS) কর্তৃক তদন্তের পর, মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয়। ATS ব্বিস্ফোরণে জরিত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে ১১ জনকে। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত। যদিও তারা স্কলেইই জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন এবং পরে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছিল।
২০১১ সালে মামলাটি জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) -এর কাছে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে এই মামলার পুনরায় রেজিস্ট্রেশন হয় এবং আরও তদন্ত পরিচালনা শুরু হয়। তারপর থেকে, একাধিক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের পর ২০১৮ সালে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালীন, আদালত ৩২৩ জন প্রসিকিউশন সাক্ষী এবং ৮ জন আসামিপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে। তদন্তের সময় বাজেয়াপ্ত করা ১০,৮০০ টিরও বেশি প্রমাণ এবং ৪০০ টিরও বেশি জিনিসপত্র সহ বিপুল সংখ্যক সামগ্রী জমা দেওয়া হয়েছিল। বিচার চলাকালীন প্রায় ৪০ জন সাক্ষী এর বিরোধিতা করে।