নিজস্ব প্রতিনিধি: ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায়। বৈবাহিক সম্পর্কে ভাঙন ও অবৈধ প্রেমের জেরে এক স্ত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রথমে এই খুনকে দুর্ঘটনা বা অন্য কারও শত্রুতার ফল বলে চালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে সত্যিটা সামনে আসে।
জানা গিয়েছে, ধনরি থানার অন্তর্গত ভৈরাবতী গ্রামে বুধবার সকালে ৪০ বছর বয়সী কৃষক নরেশের মৃতদেহ তার নিজস্ব খেত থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে জানা যায়, নরেশের স্ত্রী শীলা এবং তার প্রেমিক সতপাল মিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মূলত শীলা ও সতপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ সম্পর্কই এই হত্যার প্রধান কারণ। নরেশ এই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় তিনি তাদের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ান।
আরও পড়ুন: দশম শ্রেণীর বোর্ডে ৯২ শতাংশ নম্বর পেলেন ‘কুলফি কুমার বাজেওয়ালা’ খ্যাত মায়রা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর শীলা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে কান্নাকাটি করে এবং খুনের দায় তার এক আত্মীয়ের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং স্থানীয়দের বয়ান পুলিশের সন্দেহকে জোরদার করে। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত শীলা ও সতপাল দুজনেই তাদের অপরাধ স্বীকার করে। জেলার পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই জানিয়েছেন, নরেশের প্রতিদিন রাত করে বাড়ি ফেরার অভ্যাস ছিল, কিন্তু ঘটনার দিন তিনি আর ফেরেননি। এরপরই সন্দেহের তীর ঘুরে যায় তার স্ত্রীর দিকে। তদন্তে উঠে আসে, সতপালের স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই শীলা ও সতপালের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অবশেষে পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকেই গ্রেফতার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।