নিজস্ব প্রতিনিধি, তিরুপতি: অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর অভিযোগই সত্যি বলে প্রমাণিত হল। এক বেসরকারি পরীক্ষাগারের তরফে জানানো হয়েছে, তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডু তৈরিতে ঘিয়ের পাশাপাশি ব্যবহার করা হত পশুর চর্বি, মাছের তেল। আর ওই রিপোর্ট ফের প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লাড্ডুতে ভেজাল মেশানোর কথা জানতে পেরেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পুণ্যার্থীরা।
অমরাবতীতে এনডিএ বিধায়কদের বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু অভিযোগ করেন, ‘তিরুপতি মন্দিরের প্রসাদ তৈরিতে পশুর চর্বি ব্যবহার করা হত! মন্দিরের লাড্ডু তৈরি হত ঘিয়ের পরিবর্তে পশুর চর্বি দিয়ে। জগনমোহন রেড্ডির শাসনামলেই ওই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকে খাঁটি ঘি দিয়েই মন্দিরের লাড্ডু তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তেলগু দেশম পার্টির সুপ্রিমো। যদিও ওই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জগনের ওয়াইএসআর দলের মুখপাত্র দাবি করেন, ‘চন্দ্রবাবু নাইডু ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়েও ওই অভিযোগ পুণ্যার্থীদের ভাবাবেগে আঘাত হানতে এই ধরনের লজ্জাজনক মন্তব্য করা হয়েছে।’
তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডু নিয়ে টিডিপি ও ওয়াইএসআরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হায়দরবাদের এক বেসরকারি গবেষণাগার সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। এনডিডিবি কাফ নামে ওই সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডুর নমুনা পরীক্ষা করে ভেজাল ঘি’র সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ঘিয়ের পাশাপাশি মাছের তেল (ফিস অয়েল), পাম অয়েল এবং গরু ও শুয়োরের চর্বি দিয়ে তৈরি তেলও পাওয়া গিয়েছে। এনডিডিবি কাফের ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি। যদিও এ বিষয়ে তিনি মুখ খোলেননি। পরীক্ষাগারের রিপোর্টে তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডুতে পশুর চর্বি ও মাছের তেল মেশানোর কথা জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন পুণ্যার্থীরা।