Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

চলে গেলেন সীতারাম ইয়েচুরি, বয়স হয়েছিল ৭২ বছর

বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁর শরীরের অবণতি হওয়ায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র লাগানো হয়। এতদিন কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমেই তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানতে হল সিপিআইএমের সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে চিকি‍ৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। সিপিএমের ডাকাবুকো নেতার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী শোক প্রকাশ করেছেন। 

গত ১৯ অগস্ট থেকে নিউ দিল্লির AIIMS-এ ভর্তি ছিলেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁর শরীরের অবণতি হওয়ায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র লাগানো হয়। এতদিন কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমেই তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। ২৫ দিন জীবন-মরণ সংগ্রামের পর অবশেষে হার মারলেন সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর মৃত্যু জাতীয় রাজনীতির একটি বড় ক্ষতি। এদিন হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে একটি সংবাদ সংস্থা জানায়, “প্রবীণ CPI(M) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি দীর্ঘ অসুস্থতার পরে ৭২ বছর বয়সে মারা গিয়েছেন বৃহস্পতিবার।” বুধবার একটি প্রতিবেদন জানিয়েছিল, কয়েকদিন ধরেই তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসকের দল তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছে। 

গত মঙ্গলবার তাঁর অসুস্থতার কথা প্রথম জানান সীতারাম ইয়েচুরির দল। একটি বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা জানিয়েছিল, প্রবীণ নেতার শ্বাসনালিতে গুরুতর সংক্রমণ রয়েছে। তাই আপাতত তিনি কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে প্রবীণ বামনেতার অবস্থা খুবই সংকটজনক। তবে ১৯ অগস্ট থেকে তিনি AIIMS-এ চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রথমে ইয়েচুরির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি কেউ জানতে পারেনি। গত ২২ অগস্ট ছয় মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি। এমনকী ২৩ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের জোট নিয়ে নিজের কিছু বার্তাও পোস্ট করেছিলেন তিনি। ২৯ অগাস্টও আব্দুল গফুর নুরানির মৃত্যুতে শোকবার্তা জানান তিনি। কিন্তু তখনও তিনি হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না, প্রবীণ বামনেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ত্যুর পরে জাতীয় রাজনীতিতে আরও একটি ক্ষতি হয়ে গেল। মারা গেলেন সীতারাম ইয়েচুরি।  গত ৮ অগস্ট দিল্লিতে ইয়েচুরির চোখে ছানির অস্ত্রোপচার হওয়ার কারণে কলকাতায় বুদ্ধবাবুর শেষযাত্রায় আসতে পারেননি। ওই দিনই প্রয়াত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

২২ অগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বুদ্ধবাবুর স্মরণসভাতেও থাকতে পারেননি সীতারাম ইয়েচুরি। তার দু’দিন আগে ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে তাঁকে ভর্তি করানো হয় এমসে। CPIM পলিটব্যুরোরও সদস্য ইয়েচুরি দলের জোট সংক্রান্ত সমস্ত দিক সামালাতেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি পি চিদম্বরমের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দারিদ্র ঘোচানোর কাজ করছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালের ১২ অগস্ট ইয়েচুরির জন্ম মাদ্রাজে (অধুনা চেন্নাই)। তবে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দরাবাদে তাঁর পৈত্রিক ভিটে। মাধ্যমিক শিক্ষা  শেষ করে ১৯৬৯ সালে দিল্লির প্রেসিডেন্ট এস্টেট স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকেই CBSC দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন তিনি। তার পর স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়া চলাকালীনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি, এরপর সিপিএমের সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং পুরো সময়ের রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ১৯৭৮ সালে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক হন, এরপর ১৯৮৫ সালে ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সভাপতি হন তিনি। ঘটনাচক্রে ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলা থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন ইয়েচুরি। বাঙালি না হয়েও অনড়গল বাংলা কথা বলতে পারতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর মৃত্যু রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল ধাক্কা।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00