নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঞ্চল্যকর ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে সরকারি শিক্ষিকা হয়েছেন একজন পাকিস্তানি মহিলা। গোটা ঘটনার বিষয়টি সামনে আসতেই চমকে উঠেছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শীঘ্রই মহিলাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, বেরেলি থানার অন্তর্গত ফতেহগঞ্জ পশ্চিমাঞ্চলের মাধোপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গিয়েছে, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শুমায়লা খান বহুদিন ধরেই এই স্কুলে কর্মরত। কিন্তু আদতে তিনি একজন পাকিস্তানের নাগরিক।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়ো কাগজপত্র দাখিল করে তিনি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা হয়েছেন। আর সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্যে তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। এমনকী চাকরির জন্য তিনি যে শংসাপত্রটি আবেদন করেছিলেন, তা রামপুরের এসডিএম সদর অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সরকারি আধিকারিকদের মদতপুষ্ট তিনি। প্রাথমিক তথ্যানুসারে, ২০১৫ সালে পাকিস্তানি ওই মহিলাকে মাধপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা দফতর। কিন্তু তদন্তের পর জানা যায়, তাঁর প্রদত্ত সার্টিফিকেট সবটাই ভুয়ো।
গোটা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে ফতেহগঞ্জ পশ্চিম থানায় মামলাও করা হয়েছে। সুতরাং উত্তরপ্রদেশেও সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে চলছে ব্যাপক দুর্নীতি। এদিকে পাকিস্তানি মহিলার সরকারি চাকরি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা দফতরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন মহিলার নথিগুলি পূর্বে ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়নি? এই বিষয়ে এসপি মুকেশ চাঁদ মিশ্র জানিয়েছেন, ব্লক শিক্ষা আধিকারিক, উন্নয়ন এলাকা, ফতেহগঞ্জ পশ্চিম, ফতেহগঞ্জ পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে তিনি জানান, এসএ খানের মেয়ে শুমায়না খান, বাড়ি নং ২০, রাস্তার নং ৪, রামপুর ভুয়া আবাসিক সনদ তৈরি করে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফতেহগঞ্জ পশ্চিম থানায় ১৯/২৫ নম্বর ধারায় ৪১৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।