নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় নারীদের ক্ষমতায়ন এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামে গঞ্জে বসে ইদানিং সময়ে ঘরে গৃহবধুরাও উপার্জন করতে পারেন। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকার নারীর ক্ষমতায়নে অধিক উদ্যোগী হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালে মহিলাদের জন্য তাই শুরু করা হয় লাখপতি দিদি যোজনা (lakhpati didi yojana)।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল শিল্প ক্ষেত্রে মহিলাদের উৎসাহিত করা। সরকার বিশ্বাস করে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নারীদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্পে মহিলারা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পেতে পারেন। এর জন্য কিছু নথি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পটি প্রচলন করা হয়েছে। লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্প মহিলাদের আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহায়তা পূর্ণ। এছাড়াও এটি মহিলাদের স্ব স্ব কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করে।
লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্পে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার জন্য সুর ছাড়াই ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি মহিলাকে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
লাখপতি দিদি যোজনার আওতাভুক্ত হওয়ার জন্য মহিলাদের কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল যদি কোনও মহিলা লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন তাহলে তার পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি চাকরি করতে পারবেন না। যদি পরিবারে কোনও সরকারি চাকুরে থাকে তাহলে তিনি এই লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। আবেদন করলেও কোনও লাভ হবে না।
এই প্রকল্পের আবেদন সেই সব মহিলারাই করতে পারবেন যাদের বার্ষিক আয় তিন লক্ষ টাকা বা তার কম। তিন লক্ষ টাকা বেশি আয় হলে এই প্রকল্প আবেদন করা যাবে না।
লাখপতি দিদি যোজনা প্রকল্পে আবেদন করতে হলে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছে একটি ব্যবসায়ী পরিকল্পনা পত্র জমা দিতে হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী সেই পরিকল্পনা পত্রটি সরকারের কাছে পাঠাবে। সরকারি আধিকারিকরা সেটি যাচাই করে দেখবেন। যদি আবেদন গৃহীত হয় তাহলেই এই প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হবে এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদ ছাড়া ঋণ দেওয়া হবে।