নিজস্ব প্রতিনিধি: গায়ের রঙ কালো এবং ইংরেজি বলতে না পারার কারণে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা কটূক্তির শিকার। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন এক সদ্য বিবাহিতা তরুণী। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন নববধূ। ঘটনাটি ঘটেছে, কেরলের মালাপ্পুরমে। নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, গাঢ় বর্ণ এবং ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে প্রায়শই স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দ্বারা কটূক্তির শিকার হতেন তরুণী। সে কারণে ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী গত কয়েকদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সবটাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এরপরেই সে আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে বুধবার (১৫ জানুয়ারী) সকালে তরুণী দেহ কবর দিয়েছে তাঁর পরিবার। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনের কারণে তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। নিহত তরুণীর পরিবারের এক সদস্য জানান, প্রথমে তাঁরা শ্বশুর বাড়ির কুকীর্তির কথা জানতে পারেননি। পরে কলেজের অধ্যাপকরা তরুণীর পরিবারকে জানান যে, তাঁদের বাড়ির মেয়ে পড়ালেখা ঠিকমতো করছেন না। তখনই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। সে তার ক্লাসে প্রায়ই দুঃখিত থাকতেন।
এরপর তরুণী তাঁর পরিবারকে জানান, তাঁর স্বামী তার গায়ের রং এবং ইংরেজিতে দক্ষতার অভাবের কারণে তাঁকে মানসিকভাবে হয়রানি করছেন। এ কারণে সে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমাতেও পারছেন না। বিষয়টি জানার পর নির্যাতিতার পরিবার তাঁকে সান্ত্বনা দেয়। কাউন্সেলিং এর জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরেই মেয়েটিকে আবারও তাঁর পরিবার শ্বশুর বাড়িতে পাঠান। কিন্তু আবারও তাঁর শাশুড়ি তাকে নানারকমভাবে বিরক্ত করতে থাকেন, কটূক্তি করতে শুরু করেন। এরপর আবারও সে ডিপ্রেশনে চলে যান। এবং অবশেষে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তরুণী।