নিজস্ব প্রতিনিধি: সাংসদ হওয়ার আগে হোক বা পরে, বিতর্কের শীর্ষে অলওয়েজ নাম থাকে অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি আসন থেকে বিজেপির টিকিটে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মাণ্ডির সাংসদ হন কঙ্গনা রানাউত। জয়লাভের পর থেকেই একের পর এক কাণ্ড ঘটিয়ে বিতর্কের শিরোনামে উঠছেন কঙ্গনা রানাউত। মাস কয়েক আগে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে একজন CISF মহিলা জওয়ানের কাছে থাপ্পড় খেয়ে খবরের শিরোনামে উঠেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। যদিও পরে ওই মহিলা জওয়ানকে সাসপেন্ড করা হয়। তবে আদৌ কঙ্গনার অভিযোগ সত্য কিনা তার জন্যে তদন্তে নেমেছিলেন পুলিশ। এরপর হিমাচল প্রদেশে ভোট কারচুপিরও অভিযোগ উঠেছিল কঙ্গনার বিরুদ্ধে। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করেছিলেন যে, তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল নাহলে তিনিই ভোটে জিততেন। কায়দা করে কঙ্গনাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার ব্যবস্থা করেন। এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন কঙ্গনা রানাউত।
তবে এবার তাঁকে নিয়ে এল বড় খবর। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির ছবি মর্ফড করার অপরাধে ৪০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ পেলেন কঙ্গনা রানাউত। ব্যাপারটা ঠিক কী? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির একটি মর্ফড ছবি শেয়ার করেছিলেন অভিনেত্রী- রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাউত। ন্যাড়া মাথায় রাহুল গান্ধির একটি টুপি পরা ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। এই পোস্টের জন্যই সম্প্রতি মান্ডির বিজেপি সাংসদকে ৪০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ হয়ে অন্য একটি রাজনীতি বিদের মর্ফড ছবি শেয়ার করা, বিষয়টি একেবারেই ন্যায্যতা পায়না। আসলে সম্প্রতি, কঙ্গনা সংসদে জাত শুমারি নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধিকে খোঁচা দিতে গিয়ে তাঁর একটি জাল ছবি শেয়ার করেছিলেন ইনস্টাগ্রামে। যেখানে কংগ্রেস নেতাকে টুপি পরা, গলায় একটি ক্রস এবং কপালে হলুদ ও সিঁদুরের তিলক নিয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “রাহুল কারও জাত না জিজ্ঞাসা করেই জাতি শুমারি করতে চান।” এই বিষয়টি ভাইরাল হতেই রাহুল গান্ধি সম্পর্কে কঙ্গনার এই বিরক্তিকর মেমে কেউ ভাল চোখে দেখেননি।
সকলেই কঙ্গনার এমন আচরণের জন্যে নিন্দা করেছেন। এবং এই ঘটনায় নিস্তার পাবেন না কঙ্গনা, ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মিশ্র বলেছেন যে আইটি আইনের অধীনে কারও ছবি সম্পাদনা করা এবং মর্ফড করা এবং তাদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া ইন্টারনেটে শেয়ার করা বেআইনি। তিনি তখন বলেছিলেন যে তিনি তার বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন এবং গান্ধীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। কয়েকদিন আগে, কঙ্গনা শিরোনাম হয়েছিল যখন তিনি লোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই “ড্রাগ টেস্ট” করতে হবে। তাকে অবশ্যই “অযৌক্তিক” মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাহুল গান্ধীর কোনো মর্যাদা নেই এবং গতকাল তিনি বলছিলেন যে আমরা শিবজির বারাত এবং এটি একটি চক্রব্যূহ। আমি মনে করি যে তিনি মাদক সেবন করছেন কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। তিনি যেভাবে সংসদে পৌঁছান এবং যেভাবে তিনি যুক্তিহীন কথা বলেন। তিনি মাতাল বা মাদকের প্রভাবে যখনই তিনি সংসদে পৌঁছান তখনই কেউ এই ধরনের বিবৃতি দিতে পারে না।” কঙ্গনার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে উত্তাল শুরু হয় রাজনীতি মহলে। আর অভিনেত্রীকে তুলোধনা করতেও ছাড়েন নি রাহুল ভক্তরা।