নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিচারিকাকে ধর্ষণের অপরাধে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার নাতি তথা প্রাক্তন জেডিএস সাংসদ প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনাল বেঙ্গালুরু আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছেন বিচারক সন্তোষ গজাননা ভাট। শাস্তি ঘোষণার আগে এদিন আদালত কক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রেভান্না। প্রাক্তন সাংসদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুর্বল এক মুহুর্তে ওই ভুল করেছিলাম। তার জন্য ক্ষমা চাইছি। আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ে ন্যূনতম শাস্তি দেওয়া হোক।’ যদিও তাতে মন গলেনি বিচারকের।
গত বছর লোকসভা ভোটের মুখেই হাসনের জেডিএস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার নাতি প্রজ্জ্বল রেভান্নার কুকীর্তির কথা প্রকাশ্যে আসে। প্রাক্তন জেডিএস সাংসদের বাড়ির পরিচারিকা অভিযোগ করেন, ‘২০২১ সালে লকডাউনের সময় হাসনের খামারবাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেন রেভান্না। সেই যৌন নির্যাতনের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল শুরু হয়। ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন খামার বাড়িতেই ধর্ষণ করে সে। ওই যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়েই চাকরি ছেড়ে দেন।’ দেবেগৌড়ার নাতির কীর্তির ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ দায়ের হতেই প্রজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, লাগাতার ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচার, অপরাধমূলক মানসিকতা, প্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক ধারায় মামলা করে পুলিশ। তদন্তে নেমে হাজার হাজার আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সেই ভিডিও গুলি ছিল একাধিক মহিলার সঙ্গে যৌন নির্যাতনের।
ভোটের মুখেই রাতারাতি জার্মানি পালিয়ে যায় প্রজ্জ্বল রেভান্না। এ নিয়ে শোরগোল শুরু হতে চাপে পড়ে যায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিবার। নাতিকে অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দেন দেবেগৌড়া। সেই নির্দেশের পরে দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ৩১ মে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবারই আদালত ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল রেভান্নাকে।