নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চারদিকে শকুনের মতো ওৎ পেতে রয়েছে শত্রুরা। এতদিন চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গেই লড়াই চলছিল ভারতীয় সেনার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভারতের দয়ায় স্বাধীনতা পাওয়া ভিখারি বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেই ভারতকে লাল চোখ দেখাতে শুরু করেছে। পূর্ব সীমান্ত দিয়ে আক্রমণের হুঙ্কার দিচ্ছে। সেই হুঙ্কারের মধ্যেই ভারতীয় সেনাকে শক্তিশালী করতে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। দেশের স্থল সেনাকে শক্তিশালী করতে K9 VAJRA-T Artillery Guns নামে ভয়ঙ্কর কামান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শত্রু বিনাশকারী ওই কামান কিনতে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর সঙ্গে ৭ হাজার ৬২৮.৭০ কোটি টাকার এক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। এদিন দিল্লির সাউথ ব্লকে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংহের উপস্থিতিতেই ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ভারতীয় স্থল সেনার ভান্ডারে বর্তমানে ১০০টির মতো কে-৯ বজ্র-টি আর্টিলারি গানস (K9 VAJRA-T Artillery Guns)। মূলত পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে থাকা সেনা ঘাঁটিতেই ওই ভয়ঙ্কর শত্রুদের হাড়কাঁপুনি ধরিয়ে দেওয়া কামান রাখা হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের মৌলবাদী ও জঙ্গিরা যেভাবে লাফাচ্ছে, তাতে পূর্ব সীমান্তকে আর অরক্ষিত রাখতে রাজি নন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা। তাই কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম-সহ বাকি সেনা ঘাঁটিগুলিকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে কে-৯ বজ্রের মতো বিধ্বংসী আর্টিলারি গানের কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন তাঁরা।
১৫৫ মিলিমিটার বা ৫২ ক্যালিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কে-৯ বজ্র টি আর্টিলারি গানে একইসঙ্গে ৪৮টি গোলা মজুত করা যায়। অর্থাৎ চাইলে একই সঙ্গে একই সময়ে শত্রু পক্ষকে লক্ষ্য করে একাধিক গোলা নিক্ষেপ করা যাবে। প্রতিটি গোলার রেঞ্জ ১৮ থেকে ৫৪ কিলোমিটার। অর্থাৎ ১৮ থেকে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা যে কোনও লক্ষ্যবস্তু চোখের নিমিষেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দেবে। প্রতি ঘন্টায় ৬৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পাশাপাশি শূন্যাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রাতেও হামলা চালাতে সক্ষম। চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে এই ভয়ঙ্কর কামান ব্যবহার করেছিল ভারতীয় সেনা। কে-৯ বজ্র টি আর্টিলারি গানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, অপরিসর রাস্তা দিয়েও চলতে পারে।