নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বড় ধাক্কা! ধর্ষণ মামলায় স্বঘোষিত খ্রিস্টান ধর্মযাজক বাজিন্দর সিংহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল মোহালির পকসো আদালত। গত ২৮ মার্চ পঞ্জাবের তাজপুর গ্রামের ‘গ্লোরি অ্যান্ড উইজডম’ গির্জার ধর্মযাজক বাজিন্দরকে ২০১৮ সালের যৌন নিপীড়নের মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩২৩ (আঘাত করার শাস্তি) এবং ৫০৬ (ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার তাঁকে ২০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল মোহালি আদালত। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। যখন পঞ্জাবের তাজপুর গ্রামের ‘গ্লোরি অ্যান্ড উইজডম’ গির্জায় যাতায়াত শুরু করেছিলেন ভুক্তভোগী মহিলা। কিছুদিন পর বাজিন্দর তাঁর নম্বর নেন। তাঁকে টেক্সট করতে শুরু করেন। অশ্লিল ইঙ্গিত থাকেন তিনি। একদিন গির্জার একটি কেবিনে একা বসিয়ে রেখে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন বাজিন্দর। এছাড়াও মোহালির বাসভবনে ডেকে এনে মহিলাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছিলেন বাজিন্দর। অবশেষে ২০১৮ সালের জিরাকপুরের ওই মহিলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
জানান, স্বঘোষিত খ্রিস্টান ধর্মযাজক বাজিন্দর তাঁকে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অজুহাতে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেছেন। যাতে তিনি এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলেন, সেই কারণে ফোনে একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। তাঁর দাবিতে রাজি না হলে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের জুলাই মাসে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বাজিন্দরকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় এতদিন বাজিন্দর জামিনে ছিলেন। এই ঘটনাটি যখন ঘটেছিল তখন ভুক্তভোগী নাবালক ছিলেন। তাই মামলাটি পকসো আদালতে চলছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে, জিরাকপুর পুলিশ জলন্ধরের যাজক বাজিন্দর সিং সহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যদিও এই মাসের শুরুতে, মহিলার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন বাজিন্দর। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজিন্দরের অনুসারীদের সংখ্যা বিশাল। বলিউড অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও তাঁর ওঠাবসা রয়েছে।
যাই হোক, বাজিন্দরের পাশাপাশি মামলায় আকবর ভাট্টি, রাজেশ চৌধুরী, সুচা সিং, যতিন্দর কুমার, সিতার আলি এবং সন্দীপ ওরফে পেহলওয়ানের নাম ছিল। তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৪২০, ৩৫৪, ২৯৪, ৩২৩, ৫০৬, ১৪৮ এবং ১৪৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। প্রমাণের অভাবে আদালত অন্য আসামিদের মুক্তি দিয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভুক্তভোগী মহিলা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সে (বাজিন্দর) একজন মনোরোগী এবং জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরেও একই অপরাধ করবে, তাই আমি চাই সে জেলেই থাকুক। তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় আজ অনেক মেয়ে (ভুক্তভোগী) জিতল। তবে আমাদের উপর হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমি পঞ্জাবের ডিজিপিকে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’