নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সব জটিলতার অবসান। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক সবুজ সঙ্কেত দেওয়ায় বিতর্কিত ছবি ‘উদয়পুর ফাইলস’ শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ৮ অগস্ট ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক অমিত জানি। সেই সঙ্গে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মতো হিন্দুত্ববাদীদের হয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো ছবির মতোই যাতে ‘উদয়পুর ফাইলস’ আর্থিক লাভ তুলতে পারে, তার জন্য হিন্দুদের এক হওয়ারও ডাক দিয়েছেন তিনি। আর জানির ওই সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া পোস্টের পরে প্রশ্ন উঠেছে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতেই কী তৈরি হয়েছে ‘উদয়পুর ফাইলস’?
কংগ্রেসি জমানায় ২০২২ সালের ৮ জুন মুসলিমদের নবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র নুপুর শর্মার এক অবমাননাকর পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন স্থানীয় দর্জি কানহাইয়ালাল। আর ওই পোস্টেই আঁতে ঘা লেগেছিল উগ্র মুসলিম মৌলবাদীদের। দর্জি কানহাইয়ালালের দোকানে চড়াও হয়েছিল উচ্ছ্বৃঙ্খল জনতা। তার পর দোকানের মধ্যেই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। ওই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ সহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি প্রতিবাদে সরব হয়েছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ‘উদয়পুর ফাইলস’। প্রযোজক অমিত জানি নিজে আরএসএসের কট্টর সমর্থক। ফলে কিশোরীলালের হত্যাকে নিয়ে ছবি করার পিছনে যে গোপন রাজনৈতিক কোনও অভিসন্ধি রয়েছে তা বলা বাহুল্য।
গত ১১ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল অভিনেতা বিজয় রাজে অভিনীত ‘উদয়পুর ফাইলস’। কিন্তু ছবিটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে খলনায়ক হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মুসলিমদের একটি সংগঠন। ১০ জুলাই ‘উদয়পুর ফাইলস’ এর মুক্তির উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সম্প্রতি ছবিটি মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উপরেই ছেড়ে দেন বিচারপতিরা। এর পরেই বুধবার (৬ অগস্ট) ‘উদয়পুর ফাইলস’ ছবিটিতে আপত্তিকর কিছু নেই বলে উল্লেখ করে ছাড়পত্র দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।