নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কামড়ে সোমবার রক্তাক্ত হয়েছে দালাল স্ট্রিট। মাত্র কয়েক মিনিটেই লগ্নিকারীদের পকেট থেকে উধাও হয়েছে ২০ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতের চার শীর্ষ শিল্পপতিও এক ধাক্কায় অনেকটা গরিব হয়েছেন। হাহাকার পড়ে গিয়েছে শেয়ারবাজারে। অনেকের কাছেই ১৯৮৭ সালের স্মৃতি ফিরেছে। সেবারও ১৯ অক্টোবর লগ্নিকারীদের পথে বসতে হয়েছিল। পথচলা শুরু করার পরে ১৬০ বছরে একের পর এক ধস বা ভূমিকম্পের সাক্ষী থেকেছে দালাল স্ট্রিট। যদিও সেই ধাক্কা কাটিয়ে নব প্রত্যয় নিয়ে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তার জন্য অনেক মূল্য চোকাতে হয়েছে। অনেক আত্মবলিদানের সাক্ষী থাকতে হয়েছে। এক নজরে দেখা যাক ভারতের শেয়ারবাজারে ধসের ইতিহাস-
১৮৬৫ সাল: যখন বিএসই গঠিত হয়নি, তখনই প্রথম ধসের সাক্ষী থেকেছিল শেয়ারবাজার। সেই সময়ে গুজরাতি এবং পার্সিরা র্যাম্পার্ট রো এবং মিডোস স্ট্রিটের সংযোগস্থলে শেয়ার ব্যবসা করত বলে জানা গিয়েছে।
১৯৮২: বিএসই গঠিত হওয়ার পরে প্রথম বড় ধাক্কা শেয়ারবাজারে। কলকাতা শেয়ার বাজারের একাংশ রিলায়েন্সের শেয়ারের স্বল্প বিক্রয়ের (শর্ট সেলিং) কারণে বিএসই টানা তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ওই সময়ে রিলায়েন্সের ১.১০ লক্ষ শেয়ার স্বল্প-বিক্রয় করা হয়েছিল।
১৯৯১: হর্ষদ মেহতা ও কেতন পারেখের মতো দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের সৌজন্যে যেমন শেয়ারবাজার অনেক উত্থানের সাক্ষী থেকেছিল, তেমনই পতনেরও সাক্ষী থেকেছিল।
১৯৯২ সাল: হর্ষদ মেহতার শেয়ার কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ হতেই ১৯৯২ সালের ২৮ এপ্রিল ধসেছিল ভারতের শেয়ারবাজারে। ৩০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসতেই সেনসেক্স পড়েছিল ৫৭০ পয়েন্ট বা ১২.৭ শতাংশ।
২০০১ সাল: শেয়ারবাজারের দালাল কেতন পারেডের দুর্নীতির জন্য দালাল স্ট্রিটের স্টক মার্কেটে ভয়াবহ পতন হয়েছিল। ওই বছর ২ মার্চ সেনসেক্স পড়েছিল ৪.১৩ শতাংশ বা ১৭৬ পয়েন্টে। এই পতনের কিছু দিন আগেই গুজরাতে ভূমিকম্প হয়। তাছাড়া সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও ছিল টলমল।
২০০৪ সাল: লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর বাজারে বড় অঙ্কের পতন হয়েছিল। সেবার ব্যবসায়ী থেকে রাজনৈতিক পণ্ডিতরা সবাই ধরে নিয়েছছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু উল্টো ঘটেছিল। এনডিএ-কে হারিয়ে ইউপিএ ক্ষমতায় আসে। এর জেরে এনডিএ আমলের সংস্কারের কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় ১৭ মে সেনসেক্স ১১.১ শতাংশ কমেছিল একদিনে।
২০০৭ সাল: বছর জুড়ে সেনসেক্স এবং নিফটি পাঁচটি বড় পতনের মুখোমুখি হয়েছিল। নতুন আর্থিক বছরের শুরুতেই ২ এপ্রিল সেনসেক্স ৬১৭ পয়েন্ট কমে যায়। কারণ সেই সময় আরবিআই নগদ রিজার্ভ অনুপাত এবং রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১ এবং ১৬ অগস্ট ব্যাপক পতনের পর, তীব্র বিক্রির কারণে ১৮ অক্টোবর সেনসেক্স এবং নিফটি যথাক্রমে ১,৪২৮ এবং ২০৮ সূচচক হারায়। ২১ নভেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর সেনসেক্স এবং নিফটি ফের ভয়াবহ পতনের সাক্ষী থাকে।
২০০৮ সাল: গোটা বিশ্বেই আর্থিক মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একাধিক মার্কিন ব্যাঙ্ক নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল। তখন ভারতের বাজার থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টাকা সরাতে শুরু করেন। এর জেরে ২০০৮ সালে ২১ জানুয়ারি ৭.৪ শতাংশ বা ১ হাজার ৪০৮ পয়েন্ট পড়েছিল সেনসেক্স। সেই সময় সর্বোচচ্চচ সূচক থেকে সেনসেক্স নেমেছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। যা ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে সবথেকে খারাপ সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।
২০২০ সাল: মারণ ভাইরাস করোনা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে স্থবির করে তুলেছছিল। ২৩ মার্চ লকডাউন ঘোষণা হতেই সেনসেক্স এক ধাক্কায় ১৩.২ শতাংশ বা ৩ হাজার ৯৩৫ পয়েন্ট পড়েছিল।