নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সামনে এলেন হাথরসে ধর্মগুরু সুরজপাল সিংহ ওরফে ভোলে বাবা। হাথরসের সৎসঙ্গে পদপিষ্ট হয়ে ১২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন। শনিবার ভোলে বাবা জানান, এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই নিয়ে একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে বার্তা দিলেন তিনি।
কী বললেন ভোলে বাবা? তিনি জানান, ‘২ জুলাইয়ের ঘটনার পর আমি গভীরভাবে শোকাহত। ঈশ্বর আমাকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিন। সরকার ও প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখুন। আমি মনে করি কেউ এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা কেউ ছাড়া পাবেন না। আমার আইনজীবী এপি সিংয়ের মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কমিটি সদস্যদের কাছে অনুরোধ করছি।‘
বলা বাহুল্য ভোলে বাবার আধ্যাত্মিক জ্ঞান, অলৌকিক ক্ষমতার জন্য আকৃষ্ট হয়ে বহু মানুষ তাঁর সৎসঙ্গে অংশ নেন। শুধু তাই নয় যৌন হেনস্থা এবং মৃতকে জীবিত করার ভাঁওতা দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে ভোলে বাবার নামে। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত সিট এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিট প্রধান জানিয়েছেন, ‘আরও কিছু তথ্য প্রমাণ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের তদন্ত সম্পূর্ণ হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে।‘
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই হাথরসের সিকান্দাররাউয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ‘বোলে বাবা’ নারায়ণ সাকার হরির বিশেষ ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ধর্মসভা শেষে তাঁবু থেকে বেরনোর সময়ে শুরু হয় ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১২১ জন। ঘটনার পরেই গা ঢাকা দেন ‘ভোলে বাবা’ এবং সৎ সঙ্গের আয়োজকরা। পুণ্যের লোভে গিয়ে ১২১ জন পুণ্যার্থীর বেঘোরে প্রাণ হারানো নিয়ে যোগী প্রশাসন কাঠগড়ায় উঠেছে। মুখ রক্ষায় সৎ সঙ্গের আয়োজকদের বিরুদ্ধে সিকান্দাররাউ থানায় এফআইআর দায়ের করা হলেও তাতে নাম ছিল না ভোলে বাবার। আর তাতে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা।