নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: চোরাকারবারী ও জঙ্গিদের সমস্যা হওয়ায় এবার ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাতিলের দাবি তুললেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা আইএসআইয়ের ‘পেইড এজেন্ট’ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আসন্ন বিএসএফ-বিজিবি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা বিজিবির প্রাক্তন শীর্ষ কর্তা জাহাঙ্গীর জানান, দুই দেশের মধ্যে যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি হয়েছে তা বাতিল করার জন্য দাবি জানাবেন বিজিবির মহাপরিচালক। কেননা, ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের কোনও লাভ হয়নি।
১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই দেশের মধ্যে থকা পরস্পরের ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। তার প্রায় ৪১ বছর বাদে ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার ফলে অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা ছিটমহলগুলি পরস্পরের দখলে যায়। ভারতের মধ্যে থাকা ৫১টি ছিটমহলের মালিকানা পায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ভিতরে থাকা ১১১টি ছিটমহল চলে যায় ভারতে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটা থেকে মেখলিগঞ্জ এই বিস্তীর্ণ এলাকাগুলিতে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল।
২০১৫ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ছিটমহলগুলোকে চোরাকারবার ও জঙ্গি ডেরা হিসবে ব্যবহার করত বংলাদেশের চোরকারবারী ও জঙ্গিরা। কার্যত বাংলাদেশ সীমান্তের ছিটমহলগুলি ছিল চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্য। রাতের অন্ধকারে এমনকি অনেক সময় দিনের বেলাতেও চোরাকারবারের জিনিস ওইসব এলাকায় মজুত করত দুষ্কৃতীরা। বিএএসএফ বা পুলিশ দুষ্কৃতীদের তাড়া করলে তারা আশ্রয় নিত ওই ছিটমহলেই। কিন্তু ওই ছিটমহলগুলো হস্তান্তরের পরে চোরাকারবারী ও জঙ্গিদের বড্ড সমস্যা হচ্ছে। এতদিন শেখ হাসিনা থাকায় টুঁ শব্দটি করতে পারেনি চোরাকারবারী ও জঙ্গিরা। কিন্তু মোল্লা মুহম্মদ ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য তথা জঙ্গি ও চোরাকারবারীদের গডফাদার জাহাঙ্গীর আলম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হওয়ার পরেই সীমান্তে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে জঙ্গি ও চোরাকারবারীদের। আগের মতো যাতে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তকে চোরাকারবার আর জঙ্গি প্রশিক্ষণের মুক্তাঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলা যায় তার জন্য ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছিল জঙ্গি সংগঠন হিযুবত তাহরীর, শারকীয়া হিন্দাল, জেএমবি, আল্লাহর দলের শীর্ষ নেতারা। এবার তাদের সুরে সুর মিলিয়ে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাতিলের দাবিতে সরব হল ইউনূসের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।