নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীনগর: অমরনাথ যাত্রায় ফের বাধা। জম্মু ও কাশ্মীর সরকার শনিবার জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ৩ অগস্ট থেকে পহেলগাঁও এবং বালতাল রুটে চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রা স্থগিত রাখা হচ্ছে।
৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা ৯ অগস্ট রাখি বন্ধনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাঘাটের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে প্রবল, ক্ষতি হয়েছে রেলপথেরও। সেসব ঠিক করা দরকার। তাই গুরুত্বপূর্ণ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার কথা উল্লেখ করে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারি কর্তারা এই যাত্রা এক সপ্তাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাশ্মীরের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় কুমার বিধুরী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ের ভারী বৃষ্টিপাত এবং অমরনাথ যাত্রা পথের বালতাল এবং পহেলগাঁও উভয় স্থানে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন। তার জন্য, উভয় দিকের রেলপথেই চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে রেলপথ ঠিক হবে। ফলে মেরামতকর্মী এবং যন্ত্রপাতি মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। সেই কারণে আমরা যাত্রা পুনরায় শুরু করতে পারব না। তাই ৩ অগস্ট থেকে উভয় রুট দিয়েই যাত্রা স্থগিত করা হচ্ছে।”
বিধুরী জানিয়েছেন চলতি বছর ৪,১০,০০০ এরও বেশি যাত্রী পবিত্র গুহা মন্দির পরিদর্শন করেছেন। তুলনামূলকভাবে, গত বছর অমরনাথ দর্শনে এসেছিলেন ৫,১০,০০০ এরও বেশি তীর্থযাত্রী। এই বছর নিঃসন্দেহে পহেলগাঁও হামলার প্রভাব পড়েছে অমরনাথ যাত্রাতেও। বহু মানুষ অমরনাথ যাত্রা বাতিল করেছেন। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার পর সরকার যাত্রাপথে প্রচুর সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছিল। অতিরিক্ত ৬০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
১৮৫০ সালে বোটা মালিক নামে একজন মুসলিম রাখাল এই গুহা আবিষ্কার করেন। অমরনাথ গুহায় প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় বরফানি বাবা। নিজে থেকেই এখানে তৈরি হয় বরফের শিবলিঙ্গ, আবার নির্দিষ্ট সময় পরে তা গলতেও শুরু করে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত অমরনাথ দর্শনে আসেন। সেই ১৮৫০ সালে শুরু, তারপর থেকে বোটা মালিকের উত্তরপুরুষেরা ২০০৫ সাল পর্যন্ত যাত্রা পরিচালনা করেছেন। তারপর অমরনাথ মন্দির বোর্ড এই প্রাচীন রীতির অবসান ঘটায়।