নিজস্ব প্রতিনিধি: মাস তিনেক আগে উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় এক বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ তাঁর স্কুলের তিন ছাত্রকে লাঞ্চবক্সে আমিষ খাবার নিয়ে আসার জন্যে সাসপেন্ড করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গিয়ে ছিল তখন অভিভাবক মহলে। টিফিনে আমিষ আনার অভিযোগে তিন নাবালক ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই ঘটনার একটি ভিডিয়োও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটিতে অধ্যক্ষ ও শিশুদের মায়েদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হতে দেখা গিয়েছিল। শুধুমাত্র আমিষ খাবার আনার জন্যে স্কুল থেকে শিশুদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, বিষয়টি একে বারেই অগ্রহণযোগ্য। এরপরেই এলাহাবাদ হাইকোর্টে দ্বারস্থ নিয়েছিলেন ৩ শিশুর মা। অবশেষে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ছাত্রদের পক্ষেই রায় দিয়েছে, যাঁদের টিফিনে আমিষ খাবার আনার অভিযোগে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্য স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করতে বলেছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে। আদালতের সামনে সম্মতির হলফনামা পেশ করতে হবে।
শিশুদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের করা পিটিশনে আবেদনকারী স্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার দাবি করেছিলেন। মায়েরা অভিযোগ করেছিলেন যে, স্কুলের অধ্যক্ষ বাচ্চাদের স্কুলে আমিষ খাবার আনতে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং অন্যায়ভাবে বাচ্চাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। অবশেষে সম্প্রতি বিচারপতি সিদ্ধার্থ ও বিচারপতি এসসি শর্মার বেঞ্চ এই মামলার রায় দিয়েছেন। পিটিশনের শুনানিতে, আদালত আমরোহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের সিবিএসই-এর অধিভুক্ত অন্য কোনও স্কুলে ভর্তি করতে হবে। এবং আদালতের সামনে সম্মতির একটি হলফনামা দাখিল করতে হবে।
আবেদনকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, স্কুলের এই গুরুতর পদক্ষেপ শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে। সম্পূর্ণ অহেতুক কারণে বাচ্চাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করে গুরুতর অপরাধ করেছে অধ্যক্ষ। যা কিনা শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে। গত ১৭ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হয়েছিল। যেখানে এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ দেওয়া হয় আগামী ৬ জানুয়ারি ২০২৫। আদালত বলেছে, “যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, আমরোহা কর্তৃক কোনও হলফনামা দাখিল না করে, তাহলে তাঁকে পরবর্তী তারিখে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে হবে।”
এই ঘটনার ভাইরাল ভিডিও অনুসারে, স্কুলের প্রিন্সিপালকে তাঁর মাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমরা এই ধরনের বাচ্চাদের এমন নৈতিকতা শেখাতে চাই না যে, হিন্দুদের মন্দির ভেঙে ফেলবে এবং আমিষ খাবার স্কুলে নিয়ে আসবে।” প্রিন্সিপাল আরও দাবি করেন যে, ছাত্রটি নিজে মুসলমান বলে, তাঁর ক্লাসের সবাইকে আমিষ খাওয়ানো এবং “ইসলামে ধর্মান্তরিত করার” কথা বলেছিল। তবে ছাত্রটি স্কুলে আমিষ আনার কথা স্বীকার করলেও তার মা তা অস্বীকার করেছিলেন। ছাত্রের মাকে অধ্যক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলতে দেখা যায় যে, তার ছেলের বয়সী ছাত্ররা সাধারণত এই জাতীয় জিনিসগুলি সম্পর্কে বুঝতে পারে না। তবে অধ্যক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে হিন্দু বিরোধী কাজকরা গুলি তাঁর পিতামাতা শিখিয়েছেন। তাই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সমস্যা হওয়ায় স্কুলের রেজিস্টার থেকে ছাত্রের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। অনলাইনে ৭ মিনিটের ভিডিওটি ঝড় তুলেছিল।