নিজস্ব প্রতিনিধি: সপ্তাহ কয়েক আগেই উত্তরপ্রদেশের আলিগড় থেকে একটি অদ্ভুত ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। জানা যায়, মেয়ের বিয়ের আগে জামাইয়ের হাত ধরে পালিয়েছে জামাই। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হুলস্থূল পড়ে যায় আলিগড়ের মাদ্রাক এলাকার মনোহরপুর গ্রামে। এবার এই ঘটনায় নাটকীয় মোড় সামনে এল। ছেলের হবু শাশুড়ির বিরুদ্ধে জাদুটোনার অভিযোগ আনলেন অভিযুক্ত জামাই ওরফে রাহুলের বাবা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, রাহুলকে তাঁর হবু শাশুড়ি জাদুবিদ্যা বা কালাজাদুর মাধ্যমে ফাঁসিয়েছে। এমনকী রাহুলকে তিনি জাদুবিদ্যা শিখিয়েছেন। কারণ রাহুলের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে এসে পাঁচদিন ছিলেন হবু শাশুড়ি। ঠিক তখনই রাহুলকে দুটি তাবিজ পরিয়েছেন তাঁর হবু শাশুড়ি। একটি গলায় এবং অন্যটি কোমরে বাঁধা ছিল রাহুলের। এরপর থেকেই রাহুল নিখোঁজ।
এখানেই বোঝা যাচ্ছে, সবটাই তাবিজের মন্ত্রের ফল। বর্তমানে মাদ্রাক পুলিশ রাহুলের হবু শ্বশুরবাড়ির উপর নজর রাখছেন। রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে রাহুলের হবু শ্যালক, তাঁর বাবা এবং পুরো পরিবারকে ডেকে ছিলেন। যাঁরা উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরের বাসিন্দা। সকলের মধ্যে রাহুলের শ্যালক পুলিশের নজরে রয়েছেন। তাঁদের গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রাহুলের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু তাঁকে এখনও খুঁজে বের করা যায়নি। এদিকে হবু শাশুড়িকে নিয়ে পালানোর পরে রাহুলকে স্থাবর-সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাহুলের বাবা। তিনি বলেছেন, রাহুল এলাকায় তাঁর সুনাম নষ্ট করেছেন। তাই তিনি রাহুলকে আর বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না।
রাহুল তাঁর বাড়ি থেকে কিছু টাকা ও গহনা নিয়ে গিয়েছে। সেটাও পুলিশকে ফেরত দেওয়ার জন্যে অনুরোধ জানিয়েছেন রাহুলের বাবা। এদিকে শাশুড়ি এবং হবু জামাইয়ের অমিল প্রেমের গল্পে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। শনিবার সংবাদমাধ্যমকে ওই মহিলার স্বামী জানিয়েছিলেন যে, কয়েকদিন আগে তিনি রাত ১০টার দিকে তাঁর হবু জামাইকে ফোন করেছিলেন। প্রথমে সে নানারকম যুক্তি দেখালেও পরে তাঁকে চাপ দিতেই শাশুড়িকে নিয়ে পালানোর কথা শিকার করেন। এবং রাহুল তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, ‘তুমি তোমার বিয়ের ১৯ বছর স্ত্রীকে অনেক হয়রানি করেছ। এখন ভুলে যাও। নইলে তোমার ঘর আমি জনশূন্য করে দেব।’ এর পর ফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি রাহুলের সঙ্গে। এখন পুলিশ তাঁকে খুঁজতে ব্যস্ত।