নিজস্ব প্রতিনিধি : একেই বলে বরাত জোরে রক্ষা। মাত্র একদিনের তফাৎ। তাতেই প্রাণরক্ষা রাজ্যের প্রায় ৩৮ পর্যটকের। মিনি সুইৎজারল্যান্ড বলে পরিচিত বৈসরন ভ্যালি। সেখানেই ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল বুধবার সকালে। কিন্তু কপাল সঙ্গ দেওয়ায় বুধবারের আগেই ঘটে গেছে বড় বিপদ।
কথায় আছে, কারো পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ। এই প্রবাদবাক্যটাই মিলেছে রক্ষা পাওয়া রাজ্যেরই ৩৮ পর্যটকের সঙ্গে। কারও ভাগ্য তাঁকে নিয়ে গিয়েছে মৃত্যুর দোরগোড়ায়। আবার কারও ভাগ্য তাঁকে কান ঘেষে বাঁচিয়েছে। পহেলগাঁও-র বৈসরন ভ্যালিতে জঙ্গি হামলার পর যত সময় এগিয়েছে, তত উঠে এসেছে এমনই টুকরো টুকরো ছবি।
উত্তর ২৪ পরগনা থেকে একটি দল গিয়েছে কাশ্মীরে। ওই পর্যটক দলটি ১৬ এপ্রিল রওনা দিয়েছেন। ওই দলে রয়েছে সোদপুর, পানিহাটি, নিউ ব্যারাকপুর, আসানসোল, কলকাতা-সহ নানা এলাকার লোকজন। মঙ্গলবার আচমকাই আকাশে হেলিকপ্টার, সেনার তৎপরতা, অ্যাম্বুল্যান্স দেখে সন্দেহ হয়েছিল তাঁদের। এরপরেই দুঃসংবাদটি পান। জানতে পারেন, রাত পোহালেই যেখানে তাঁদের যাওয়ার কথা, সেখানেই নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে জঙ্গিরা। তাও লক্ষ্য ছিল পর্যটকরাই।
খবর আসার পরেই পথেই আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক গাড়ি। সেনাদের তৎপরতা ছাড়া তখন চারদিকে কিছুই দেখা যায়নি। নিরাপত্তার খাতিরে পথ আটকে দেন সেনারা। এরপরেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ৩৮ জনের দলটি ফিরে আসে। ঘোরার আনন্দ যেন মুহূর্তের মধ্যে গায়েব। কোনও মতে শ্রীনগরে ফিরলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাঁদের। কখনও আতঙ্কের ভূস্বর্গ ছেড়ে ফিরতে পারবেন নিজের ঘরে সেই নিয়েই চিন্তা বাড়ছে।