নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিদ্বার: উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ দুর্যোগের কথা কারও অজানা নয়। উত্তরাখণ্ড দেবভূমি, ফলে বহু মানুষ এই একটি রাজ্যের মধ্যে দিয়েই চলে যায় কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী , যমুনেত্রী। হড়পা বানে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়ে ধারালি গ্রামের বেশ খানিকটা অংশ। মঙ্গলবার আচমকা হড়পা বান আসে ক্ষীরগঙ্গা নদীতে। বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একাধিক ঘরবাড়ি, যানবাহন, হোটেল, রাস্তাঘাট।
ধ্বংসস্তূপের তলায় গ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির কল্প কেদারও। মনে করা হয় এই মন্দির পাণ্ডবদের তৈরি। এদিকে উত্তরাখণ্ডের ভয়াবহ বিপর্জয়ে নিখোঁজ কেরলের বাসিন্দা ২৮ সদস্যের একটি পর্যটক দল। ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন কেরলেরই বাসিন্দা। তাঁরা মহারাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেছিলেন। বাকি আটজন কেরোলের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন দলের এক দম্পতির আত্মীয়। তিনি জানিয়েছেন, ওই দম্পতির ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল একদিন আগে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে ফোনে ছেলে বাবা মা’কে জানান তাঁদের দলটি উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী যাচ্ছেন। সেই পথেই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। হরিদ্বার-ভিত্তিক একটি ট্রাভেল এজেন্সি ১০ দিনের জন্য উত্তরাখণ্ড ভ্রমণের আয়োজন করেছিল। তারাও দলটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনও আপডেট দিতে পারেনি। তবে সবার আশা হয়তো ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে, কোথাও চার্জ দেওয়া যায়নি। মঙ্গলবার বিকেলে মেঘ ভাঙার পর উত্তরাখণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালির প্রায় অর্ধেক অংশ কাদা, ধ্বংসাবশেষ এবং জলের বিশাল ধ্বসের নিচে চাপা পড়ে গেছে। গঙ্গার উৎপত্তিস্থল গঙ্গোত্রীতে যাওয়ার পথে এই গ্রামটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বেশ কয়েকটি হোটেল এবং হোমস্টে রয়েছে।