নিজস্ব প্রতিনিধি : পৌষ পেরিয়ে মাঘ এসেছে, কথায় আছে মাঘের শীত বাঘেও ভয় পায়। এই শীতের মধ্যে দিব্যি লেপের তলা থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরে পিঠে তৈরির ধুম পড়ে যায় বাড়ির মেয়ে-বউদের মধ্যে। এ যেন এক প্রতিযোগিতা..। চারিদিকে ম ম করে গুড়ের গন্ধ, চাল বাটার শব্দ, চিনির সুঘ্রাণ। বাংলার ঘরে ঘরে মা, বউদের হেঁশেল থেকে যে সব পিঠে তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে, তা রীতিমতো যেন রূপকথা ছাড়া আর কিছুই নয়। ‘ভোজনরসিক বাঙালী’ কথাটা খাপে খাপে সত্য। দুধপুলি থেকে শুরু করে ভাপা অনেক তো পিঠে খেয়েছেন, একবার চেখে দেখবেন নাকি পাড়াগাঁয়ের নকশি পিঠে। পিঠের স্বাদে ডুব দিতে চান ? তবে আমতা আমতা না করে জানুন রেসিপি।
উপকরণ : চালের গুঁড়ো ২ কাপ, জল ২ কাপ, স্বাদমত লবন, গুড়ের সেরা তৈরির জন্য লাগবে খেজুর গুড় ২ কাপ, তেল প্রয়োজন মতো, খেজুর কাঁটা বা বড় ছুঁচ বা টুথপিক, পাতলা টিন(খাঁজ কাটার জন্য) ও নতুন চিরুনি, এলাচ ও তেজপাতা
প্রণালী : প্রথমে কাঠের হাতা দিয়ে সব নেড়ে মিশিয়ে দিন। এরপর গ্যাস বন্ধ করে মণ্ডটি কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। এরপর মণ্ড ভালো করে মেখে নিন আটার মতো। সেই মণ্ড বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করে নিন। এক একটি ভাগ নিয়ে মোটা করে রুটির মতো বেলে নিন।
এবার রুটির উপর সামান্য তেল মাখিয়ে নিন। খেজুর কাঁটা, ছুঁচ, চিরুনি দিয়ে ইচ্ছা মতো নকশা করে নিন। টিনের পাত দিয়ে পিঠের সাইডের ধারে খাঁজ কেটে নিন। এভাবে সব পিঠে বানানো হয়ে গেলে গ্যাসে কড়াই বসিয়ে তেল গরম করতে দিন। তেল গরম হলে একটা একটা করে পিঠে ডুবো তেলে মাঝারি আঁচে ভেজে নিন। পিঠের এক পিঠ গোল্ডেন ব্রাউন হয়ে গেলে সাবধানে অন্য পিঠ উল্টে ভেজে নিন।
আরও পড়ুন : নয়া রেসিপি, এইভাবে পাটিসাপটা বানালে প্রেমে পড়ে যাবে সকলে..
সবগুলো পিঠে ভাজা হয়ে গেলে তেল ঝরিয়ে নিয়ে আলাদা প্লেটে তুলে রাখুন। এবার সেরা তৈরির পালা। গুড়, তেজপাতা ও এলাচ জাল দিয়ে পিঠের সিরা তৈরি করে রাখুন। হালকা গরম গুড়ের সিরার মধ্যে ভেজে রাখা পিঠেগুলো এক মিনিট মতো ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পিঠে থেকে অতিরিক্ত সিরা ঝরিয়ে পিঠেগুলো প্লেটে তুলে রাখুন। ব্যস তৈরি নকশা পিঠে।