নিজস্ব প্রতিনিধি : ভাদ্রপদের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে গণেশের জন্ম হয়। গণেশ চতুর্থী গণেশ জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়। গণেশের খাওয়া নিয়ে বেশ কিছু পৌরাণিক গল্প রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হল, একদিন ঋষি অত্রি গণেশকে ভোজনের জন্য বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেন। ঋষি অত্রির স্ত্রী অনুসূয়া আহার পরিবেশন করলে ভোজন শুরু করেন গণেশ। কিন্তু কিছুতেই গণেশের পেট আর ভরে না। এটা দেখে অনুসূয়া চিন্তিত হয়ে পড়েন। বাড়িতে কোনও অতিথি এসে এইভাবে না খেয়ে ফিরে যাবে। অতিথি হল নারায়ন তাঁকে অতৃপ্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া পাপ বটে।তখন অনুসূয়া ভাবেন গণেশকে তৃপ্ত করতে কিছু মিষ্টি দেন। সেই সময় অনুসূয়ার কাছে বেশ কিছু মিষ্টি প্রস্তুত করা ছিল। সুস্বাদু মোদক খেয়ে গণেশের মন ও পেট দুই-ই ভরে যায়। তিনি প্রসন্ন হন। সেই থেকে মিষ্টান্ন হোক বা লাড্ডু অত্যন্ত প্রিয় সিদ্ধিদাতার কাছে। অন্য একটি কাহিনী অনুযায়ী মা পার্বতী নিজেই মোদক ও মিষ্টি বানিয়ে দিত। সেই থেকে মিষ্টির প্রতি অন্য ভালবাসা লুকিয়ে রয়েছে গণেশের। তাঁর অন্যতম প্রিয় খাবার হল মুড়ির মোয়া। অন্যদিকে মোয়া দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন বাঙালির ঐতিহ্য।
মুড়ি এবং গুড়কে একসাথে জ্বাল দিয়ে গোল পাকিয়ে যে মিষ্টি তৈরি করা হয় তাকেই মোয়া বলে। গণেশ চতুর্থীতে নিজের হাতে বানিয়ে বিঘ্নহর্তাকে নিবেদন করুন এই মোয়া। প্রসন্ন হবেন তিনি। জেনে নিন বানানোর সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ : মুড়ি-২০০ গ্রাম, আখের বা খেজুরের গুড়-১০০ গ্রাম, জল সামান্য, ঘি ও ভাজা বাদাম
প্রণালী : প্রথমে অল্প আঁচে কড়াই বসিয়ে নিন। এর পর গুড় জ্বালাতে হবে। গুড় গলতে শুরু করলে সামান্য জলের ছিটে দিয়ে দিন। এবার গুড় কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে আঠালো করতে হবে। তবে দেখবেন বেশি আঁচে যাতে গুড় পুড়ে না যায়।
গুড় আঠালো হয়ে গেলে তাতে মুড়ি দিয়ে দিন। এবার তাতে ভেজে রাখা বাদাম আধ ভাঙা করে দিয়ে দিন। এবার গুড় ও মুড়ি ভালোভাবে নেড়ে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার নামিয়ে হালকা ঠান্ডা হলে হাতের তালুতে সামান্য ঘি মেখে সহনীয় গরম থাকতেই ভালোভাবে চেপে হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গোল মোয়া বানিয়ে নিতে হবে। ব্যস রেডি মুড়ির মোয়া। এবার গরম গরমই নিবেদন করতে পারেন সিদ্ধিদাতাকে।