নিজস্ব প্রতিনিধি, রংপুর: প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত রংপুরে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙতে এলে সন্ত্রাসীদের হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঙ্কার ছেড়েছেন প্রাক্তন মেয়র তথা দলের কো-চেয়ারম্যান মোস্তফাজির রহমান মোস্তফা। শনিবার রংপুরে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ঢাকায় গতকাল (শুক্রবার) তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল। তবে রংপুরে এখনও পর্যন্ত তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। যদি তাদের কাছে শক্তি থাকে, তারা আসুক এবং দেখুক কী অবস্থা হয়। রংপুরে তারা যেন না ভাবে, জাতীয় পার্টি দুর্বল। এখানে হামলা করতে আসলে তাদের পাল্টা প্রতিরোধ করা হবে। হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
গত শুক্রবার (২৯ অগস্ট) রাতে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র তথা ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এজেন্ট নুরুল হক নুরের সন্ত্রাসী বাহিনী। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থকরা। সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে নুরুল হক নুর ও তাঁর পোষ্য গুন্ডা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।ওই ঘটনার পরেই শনিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে নব্য রাজাকার বাহিনী হিসাবে পরিচিত গণ আধিকার পরিষদের সশস্ত্র ক্যাডাররা। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ভোটে লড়তে দেওয়া হবে না বলে দাবি জানায় পাকিস্তান প্রেমী হিসাবে পরিচিত বিএনপি-জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাতে সম্মত হন ইউনূস। শুধু তাই নয় গণ অধিকার পরিষদের নেতৃত্বকে ডেকে জাতীয় পার্টির কার্যালয় গুঁড়িয়ে ও জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশের পরেই সন্ধেয় কাকরাইল মোড় থেকে গণ অধিকার পরিষদের সশস্ত্র ক্যাডাররা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মিছিল করে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে হামলা করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা জাতীয় পার্টির নেতাদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে লাঠি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে তেমনই ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রংপুরের প্রাক্তন মেয়র মোস্তফা বলেন, ‘কিছু উসকানিদাতা জাতীয় পার্টিকে বারবার হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। তারা চাইছে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে। এটা একেবারেই লজ্জাজনক। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে।’
’