নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকারের অবসানের পরে কার্যত আইনের শাসন বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে। দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংক্রামক ব্যধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে মব জাস্টিস। গতকাল বুধবারই (১৮ সেপ্টেম্বর) উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে খুন হয়েছেন তিন জন। তার মধ্যে দুটি ঘটনা ঘটেছে দেশের ঐতিহ্যশালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। নীরব রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে আরও উৎসাহিত হয়ে আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন উত্তেজিত জনতা ও সন্ত্রাসীরা। আর তাতেই প্রমাদ গুনছেন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই নৈরাজ্যের জন্যই কী শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৪৫ দিনে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন একশোর বেশি। নিহতদের অধিকাংশই প্রাক্তন শাসকদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে বিক্ষোভকারীদের উপরে হামলার অভিযোগ এনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্ন জায়গায় গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগেই ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছিলেন তিনি। ওই কন্যা সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সন্ত্রাসীদের গণপিটুনির শিকার হন।
গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তফাজ্জল নামে এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে মারা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লাকে বেধড়ক মারধর করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা। আর ওই গণপিটুনিতে নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহসান লাবিব। বগুড়াতে গরু চুরির অপরাধে এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে মারে উত্তেজিত জনতা। তিন ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে পুলিশ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে গণপিটুনিতে দুই যুবকের প্রাণহানির ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও গণপিটুনির ঘটনায় দোষের তেমন কিছু দেখছেন না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহরা। তাঁদের কথায়, ‘মানুষ ১৫ বছরে ধরে আওয়ামী শাসনে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের ক্ষোভ ঝরে পড়েছে গণপিটুনির ঘটনায়।’