নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু খেদাও ও হিন্দু নিধন যজ্ঞ। পাকিস্তানের চর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন খোদ অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন থেকে হিন্দু আধিকারিকদের তাড়ানো শুরু করেছে। বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনও হিন্দু নেই। প্রশাসনের তরফ থেকে যেমন হিন্দু খেদাও অভিযান শুরু হয়েছে, তেমনই মৌলবাদী দল জামায়াত ইসলামী ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের তরফে গ্রামাঞ্চলের হিন্দুদের দেশ ছাড়া ও প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে দলে যোগ দেওয়ানো চলছে। সেই সঙ্গে ধর্মান্তকরণের ফর্মে জোর করে সই আদায় করার কাজও চলছে। মৌলবাদীদের এমন চাপের মুখে আতঙ্কে গুটিয়ে গিয়েছেন হিন্দুরা।
গত ২ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার খলিশা এলাকার বাসিন্দা তথা গ্রামীণ চিকিৎসক ধীরকৃষ্ণ রায়কে হুমকি দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। যোগ না দিলে কোতল করা হবে বলেও হুমকি দেন দাকোপ উপজেলার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে হইচই শুরু হতেই শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, ধীর কৃষ্ণ রায় নিজেই আগ্রহী হয়ে তাদের দলে যোগ দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোনও ধর্মের লোক ইসলামী আন্দোলন করতে পারবে।
খুলনার ধীর কৃষ্ণের পাশাপাশি গত ৭ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাটের খুনিগাছি ইউনিয়নের কালমাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ জন হিন্দুকে দেশত্যাগ ও খুনের হুমকি দিয়ে সদস্যপদ নিতে বাধ্য করে জামায়াত ইসলামী। সেই সঙ্গে ধর্মান্তকরণের ফর্মেও সই করানো হয়। আর লজ্জাজনক ও ভয়ঙ্কর ঘটনার নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট জেলার জামায়াত ইসলামীর সহকারী সম্পাদক হাফেজ শাহ আলম। হিন্দু পরিবারগুলিকে কোরান-হাদিস সহ বিভিন্ন ধর্মীয়গ্রন্থও তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক নেতা জানিয়েছেন, শুধু খুলনা কিংবা লালমনিরহাটেই নয় দেশের বিভিন্ন জেলাতেই হিন্দুদের দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে দলে যোগ দিতে বাধ্য করছে জামায়াত ইসলামী-সহ মৌলবাদী দলগুলি।